প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল: মেধা যাচাই নাকি শিশু শিক্ষার্থীদের উপর প্রতিযোগিতার চাপ?

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল: মেধা যাচাই নাকি শিশু শিক্ষার্থীদের উপর প্রতিযোগিতার চাপ? | ব্যাঙেরছাতা

শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপ হলো একটি শিশুর ভবিষ্যতের ভিত্তি। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া চলে আসছিল। তবে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে সারাদেশে অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মূলত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া এখন নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে রয়েছে মেধা যাচাইয়ের যুক্তি, অন্যদিকে রয়েছে কোমলমতি শিশুদের ওপর মানসিক চাপের আশঙ্কা। আজকের এই বিশ্লেষণী নিবন্ধে আমরা এই পরিবর্তনের নানাদিক খতিয়ে দেখব।

​লটারি পদ্ধতির প্রেক্ষাপট

​করোনা মহামারীর সময় থেকে বাংলাদেশে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি শুরু হয়। মূলত কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা এবং শিশুদের চাপমুক্ত রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তৎকালীন সরকার মনে করেছিল যে, লটারি হলে সব শিশু সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু বাস্তবে এই পদ্ধতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এর ফলে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। সেই জায়গা থেকেই বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

​কেন লটারি বাতিল করা হলো?

​লটারি পদ্ধতি বাতিলের পেছনে প্রধান যুক্তি হলো গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা। লটারির মাধ্যমে যখন শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়, তখন মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে মেধা যাচাই প্রয়োজন। লটারি পদ্ধতিতে অনেক সময় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। একটি ক্লাসে বিভিন্ন মেধার শিক্ষার্থী থাকায় পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষার দিকে মোড় নিয়েছে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

ইরান যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি: ক্রমাগতভাবে সঙ্গীহীন হয়ে পড়ছে যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্র

​মেধা যাচাই না কি অসম প্রতিযোগিতা?

​ভর্তি পরীক্ষা ফিরে আসায় মেধা যাচাইয়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে। যারা কঠোর পরিশ্রম করবে, তারা তাদের পছন্দের স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু থেকেই পড়ার আগ্রহ তৈরি করবে। তবে প্রশ্ন জাগে, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির একটি শিশুর কি মেধা যাচাইয়ের বয়স হয়েছে? অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, এই বয়সে পরীক্ষা শিশুদের মনে ভীতি তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া এমন হওয়া উচিত যা আনন্দদায়ক হয়। কিন্তু পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরে আসায় আবারও সেই পুরোনো প্রতিযোগিতার আমেজ ফিরে আসছে।

​কোচিং বাণিজ্যের পুনরাবৃত্তি

​লটারি পদ্ধতি চালুর অন্যতম বড় কারণ ছিল কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা। ভর্তি পরীক্ষার ঘোষণা আসার পরপরই আবারও কোচিং সেন্টারগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কোচিংমুখী করছেন। এর ফলে শিশুদের শৈশব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি শুধুমাত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে বাণিজ্য বাড়বে। এটি নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে সরকারকে কঠোর মনিটরিং করতে হবে।

​শিশুদের ওপর মানসিক চাপের প্রভাব

​একটি ছয় বা সাত বছরের শিশুর জন্য পরীক্ষা দেওয়া বেশ কঠিন। তারা অনেক সময় বড় বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হিমশিম খায়। ব্যর্থ হলে শিশুদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে। লটারি পদ্ধতিতে এই মানসিক চাপটি ছিল না। কিন্তু বর্তমানের এই নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া শিশুদের খেলার সময় কেড়ে নিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ শিশুদের বিকাশে বাধা দেয়। তাই পরীক্ষার ধরন যেন শিশুর উপযোগী হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ঈদের চেয়েও অধিক আনন্দ: পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওডিআই সিরিজ জয়

​শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ও নতুন পরিকল্পনা

​শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, পরীক্ষা মানেই কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেছেন, শিশুদের ওপর চাপ দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা কেবল একটি পদ্ধতিগত মূল্যায়ন চাচ্ছেন। ক্লাস ওয়ানে নিউরোসার্জন তৈরির কোনো চেষ্টা করা হচ্ছে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া সহজ করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষা বা সৃজনশীল কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে এই মূল্যায়ন হতে পারে। তবে এর সঠিক রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

​অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা

​অধিকাংশ অভিভাবক চান তাদের সন্তান নামী স্কুলে পড়ুক। লটারি পদ্ধতিতে ভাগ্য সহায় না হলে ভালো স্কুলে যাওয়া সম্ভব ছিল না। অনেক অভিভাবক তাই পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পাওয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ। তবে অনেক অভিভাবক আবার চিন্তিত। তারা মনে করছেন, এখন থেকেই শিশুকে গৃহশিক্ষক বা কোচিংয়ে পাঠাতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত হয়, এটাই তাদের দাবি।

​বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা

​বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত লটারি বা কঠিন পরীক্ষা থাকে না। উন্নত বিশ্বে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা বাসার কাছের স্কুলে ভর্তির নিয়ম থাকে। ফিনল্যান্ড বা জাপানের মতো দেশে প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা থাকে না। সেখানে শিশুদের সামাজিক দক্ষতা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে বারবার নীতি পরিবর্তন করা হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান বয়ে আনে না। আমাদেরও উচিত বৈশ্বিক সফল মডেলগুলো পর্যবেক্ষণ করা।

​গ্রাম ও শহরের বৈষম্য

​শহরের স্কুলগুলোতে ভর্তির প্রচণ্ড ভিড় থাকে। গ্রাম পর্যায়ে লটারি বা পরীক্ষা কোনোটিই বড় সমস্যা নয়। কিন্তু শহরের ভালো স্কুলগুলোতে আসনের তুলনায় আবেদনকারী কয়েক গুণ বেশি। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতেই মূলত পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি এলাকাভিত্তিক হতো, তবে এই চাপ কমত। গ্রামের সাধারণ স্কুলগুলোর মান বাড়াতে পারলে শহরের স্কুলের ওপর চাপ কমত। এই বৈষম্য দূর করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

​শিক্ষাবিদদের মূল্যায়ন

​দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদরা এই বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ বলছেন, লটারির চেয়ে পরীক্ষা অনেক বেশি যৌক্তিক। অন্য এক দল বলছেন, শিশুদের জন্য পরীক্ষা একটি অভিশাপ। তাদের মতে, ভর্তির জন্য পরীক্ষা না নিয়ে ক্লাসের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা উচিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া সংস্কারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিক্ষকরা যেন খেলার ছলে শিশুদের মেধা যাচাই করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

​বেসরকারি স্কুলের ভূমিকা

​সরকারি স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের চাহিদা অনেক বেশি। বেসরকারি স্কুলগুলো অনেক আগে থেকেই পরীক্ষার পক্ষে ছিল। তারা মনে করে, লটারি তাদের শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারি স্কুলগুলো এখন অবাধে ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারবে। এতে স্কুলের সুনাম বাড়বে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে শিক্ষা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে বেসরকারি স্কুলগুলোর ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: একটি সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​প্রযুক্তি ও ভর্তি প্রক্রিয়া

​বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। অনলাইনে আবেদন এবং ফলাফল প্রকাশ এখন নিয়মিত বিষয়। কিন্তু পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কেমন হবে তা দেখার বিষয়। মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া ডিজিটাল এবং সনাতন পদ্ধতির এক চমৎকার সংমিশ্রণ হওয়া উচিত।

​মেধা যাচাইয়ের বিকল্প পথ

​মেধা যাচাইয়ের জন্য কি কেবল লিখিত পরীক্ষাই একমাত্র পথ? শিশুদের ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গল্প বলা বা সাধারণ জ্ঞান জিজ্ঞাসার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায়। এতে শিশুরাও আনন্দ পায় এবং ভয় পায় না। সরকার চাইলে এ ধরনের কোনো নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া হতে হবে শিশুবান্ধব। শুধুমাত্র মুখস্থ বিদ্যার ওপর ভিত্তি করে ভর্তি নিলে প্রকৃত মেধা যাচাই হবে না।

​আইনগত ও নৈতিক দিক

​শিক্ষার অধিকার সবার সমান। একটি শিশুকে পরীক্ষার মাধ্যমে বাদ দিয়ে দেওয়া কি নৈতিক? অনেক দেশে কোনো শিশুকে ভর্তিতে না বলা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আমাদের দেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া যেন কোনো শিশুকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না করে। পরীক্ষা যেন কেবল আসন বিন্যাসের হাতিয়ার হয়, মেধার বিচারদণ্ড নয়।

​ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ

​লটারি বাতিল করার পর বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ভর্তি পরীক্ষায় যেন কোনো ধরণের জালিয়াতি না হয় তা দেখতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটলে পুরো পদ্ধতি ভেস্তে যাবে। অভিভাবকদের আস্থায় রাখা সরকারের জন্য একটি বড় কাজ। এছাড়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করাও একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুপারিশসমূহ
​১. পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শিশুদের বয়স অনুযায়ী সহজ হতে হবে।
২. কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
৩. এলাকাভিত্তিক ভর্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
৪. সরকারি স্কুলের মান বেসরকারি স্কুলের সমান করতে হবে।
৫. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করতে হবে।
৬. প্রতি বছর নীতি পরিবর্তন না করে একটি স্থায়ী পদ্ধতি দাঁড় করাতে হবে।

​প্রাথমিক শিক্ষাই জীবনের মূল পাঠশালা। এখানে শিশুদের ওপর কোনো চাপ থাকা উচিত নয়। লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা একটি সাহসী কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। যদি এই পদ্ধতিটি স্বচ্ছ এবং শিশুবান্ধব হয়, তবে এটি ইতিবাচক ফল দেবে। তবে যদি এটি কেবল প্রতিযোগিতার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, তবে শিশুদের শৈশব বিপন্ন হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে প্রতিটি শিশু আনন্দের সাথে শেখার সুযোগ পায়। মেধা যাচাই হোক মেধার বিকাশের জন্য, তাকে দমন করার জন্য নয়। আমরা চাই এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে ভর্তি কোনো যুদ্ধ নয়, বরং একটি নতুন সম্ভাবনার শুরু।

সরকারের উচিত সব পক্ষের সাথে আলাপ করে একটি চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন করা। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থেই আমাদের এই পদক্ষেপগুলো সতর্কতার সাথে নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত শিশুদের হাসিমুখই যেন হয় আমাদের লক্ষ্য।

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *