
যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিতভাবেই একটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তিগুলো এড়িয়ে চলারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব শান্তির জন্য একটি ইতিবাচক দিক। যুক্তরাষ্ট্রের আহবান প্রত্যাখ্যান বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী নিউজ মিডিয়া এএফপি ও রয়টার্স। পাশাপাশি দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে আমরা তৈরি করেছি এই বিশ্লেষণ মূলক প্রতিবেদন।
বিশ্ব রাজনীতিতে এক সময় ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। হোয়াইট হাউস থেকে কোনো ডাক এলে মিত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের ইস্যুতে মার্কিনীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে, তখন তার দীর্ঘদিনের মিত্ররাই পিছপা হচ্ছে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি যুক্তরাষ্ট্রকে এক চরম কূটনৈতিক সংকটে ফেলেছে। ফলে পারস্য উপসাগরের উত্তাল জলে ওয়াশিংটন এখন অনেকটা একা।
মিত্রদের পিছুটান ও বর্তমান বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলো এখন আর অন্ধভাবে ওয়াশিংটনকে অনুসরণ করতে রাজি নয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো দেশগুলো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় চিত্রটা এমন ছিল না। তখন ন্যাটো জোটের দেশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু এখন তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিই আজ আমেরিকাকে একা করে দিয়েছে।
কেন এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি?
ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, ইরানের সাথে যুদ্ধ মানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। এছাড়া ইউরোপে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে। এই বাস্তব আশঙ্কাই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি তৈরির মূল কারণ। মিত্ররা এখন আর মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চায় না। তারা মনে করে, আলোচনার মাধ্যমেই পারমাণবিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তাদের ক্ষুব্ধ করেছে।
ট্রাম্পের সামনে উভয় সংকট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এক কঠিন উভয় সংকটে পড়েছেন। একদিকে তিনি ইরানকে কঠোর বার্তা দিতে চান। অন্যদিকে মিত্রদের ছাড়া বড় কোনো যুদ্ধে যাওয়া তার জন্য অসম্ভব। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি তাকে ঘরোয়া রাজনীতিতেও চাপে ফেলেছে। মার্কিন জনগণও এখন আর অন্তহীন যুদ্ধে অর্থ ব্যয় করতে ইচ্ছুক নয়। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানকে একঘরে করতে। কিন্তু দিনশেষে তিনি নিজেই বিশ্বমঞ্চে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। মিত্রদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়া তার নেতৃত্বের দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ঈদের চেয়েও অধিক আনন্দ: পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওডিআই সিরিজ জয়
পারস্য উপসাগরে একাকী যুক্তরাষ্ট্র
রয়টার্সের তথ্যমতে, পারস্য উপসাগরে নৌ-টহল জোরদার করার আহ্বানেও সাড়া দিচ্ছে না অনেক দেশ। দীর্ঘ বছর ধরে মার্কিন সাহায্য নেওয়া দেশগুলো এখন সহায়তা করতে অস্বীকার করছে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি প্রমাণ করে যে মার্কিন ডলারের প্রভাব আর আগের মতো নেই। অনেক দেশ এখন নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। তারা বুঝতে পারছে যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করা মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। ফলে পারস্যের নীল জলে এখন মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অনেকটা একাই টহল দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যসহ তিন শক্তিশালী দেশের অবস্থান
লন্ডন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কোনো উস্কানিমূলক যুদ্ধে জড়াবে না। জার্মানি এবং ফ্রান্সও একই সুরে কথা বলছে। এই তিন শক্তিশালী ইউরোপীয় দেশের যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি ট্রাম্পের সামরিক পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। তারা মনে করে, পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল। এই ভুলের মাশুল তারা দিতে রাজি নয়। মিত্রদের এই দৃঢ় অবস্থান ওয়াশিংটনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। কিন্তু ট্রাম্পের একগুঁয়েমি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সঙ্গীহীন হওয়ার নেপথ্যে ট্রাম্পের নীতি
ট্রাম্প প্রশাসনের খামখেয়ালি আচরণ এবং একের পর এক চুক্তি বাতিল বিশ্বস্ততা নষ্ট করেছে। যখনই কোনো সংকটে মিত্রদের প্রয়োজন হয়, তখনই দেখা যায় যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি। ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন এবং শিষ্টাচার তোয়াক্কা না করার নীতি নিয়েছে। এর ফলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এখন ওয়াশিংটনকে আর বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার মনে করছে না। তারা এখন বিকল্প শক্তির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: একটি সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
অর্থনৈতিক প্রভাব ও মিত্রদের আতঙ্ক
বিশ্ব অর্থনীতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মুহূর্তেই বাজার ব্যবস্থায় পড়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সংকট প্রকট হবে। এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ভয়েই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি বাড়ছে। তারা রাশিয়ার মতো বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে অন্য দেশের সাথে ব্যবসা বন্ধ করতে তারা আর রাজি নয়। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ নীতিকে অকার্যকর করে দিচ্ছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর নীরবতা ও সতর্কতা
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও এখন আর সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চায় না। কাতার, ওমান এমনকি কুয়েতও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি ট্রাম্পকে অবাক করেছে। কারণ একসময় এই দেশগুলো মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন তারা চীনের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। আঞ্চলিক এই মেরুকরণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। তারা বুঝতে পারছে যে এই অঞ্চলে তাদের একক আধিপত্যের অবসান ঘটছে।
এএফপি ও রয়টার্সের বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন একঘরে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দেশ সফর সত্ত্বেও তারা কোনো সামরিক প্রতিশ্রুতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি সংবাদ শিরোনামে নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, ন্যাটো জোটের মধ্যেও ফাটল দেখা দিয়েছে। তুরস্কের মতো দেশগুলোও মার্কিন পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে না। সব মিলিয়ে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করার মতো সক্ষমতা এখন আর ওয়াশিংটনের নেই।
যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি এবং কূটনৈতিক ব্যর্থতা
কূটনীতি মানেই হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন পেশী শক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি। পেশাদার কূটনীতিকদের পরিবর্তে নিজের পরিবারের সদস্য বা কট্টরপন্থীদের দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ফলাফল এখন হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে। কোনো দেশই এখন আর মার্কিন নির্দেশনার অপেক্ষায় বসে থাকে না। তারা নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বা ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বজায় রাখতে সচেষ্ট।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও জনমত
পেন্টাগনের অনেক কর্মকর্তাও মনে করেন, মিত্রদের ছাড়া ইরান যুদ্ধ হবে একটি বিপর্যয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্লান্তি রয়েছে। এর ওপর যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি যোগ হওয়ায় মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের ভেতরেও বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই একক নীতির তীব্র সমালোচনা করছে। তারা মনে করে, ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মার্কিনী নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়ন
বাংলাদেশের প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক এবং সমকালের মতো শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোও এই সংকট নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে যে মার্কিন আধিপত্য এখন হুমকির মুখে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি বিষয়টিকে তারা বিশ্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। পত্রিকাগুলোর শিরোনামেই ফুটে উঠেছে ট্রাম্পের একাকিত্বের কথা। মিত্রদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ব্যর্থ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয়। এটি প্রমাণ করে যে পেশী শক্তি দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
ইরানের অবস্থান ও কৌশলী পদক্ষেপ
এদিকে ইরান অত্যন্ত কৌশলে এগোচ্ছে। তারা ইউরোপীয় দেশগুলোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তারা যুদ্ধের পক্ষে নয়। এই কূটনৈতিক প্রচারণার কারণেই মূলত যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি তৈরি হয়েছে। ইরান রাশিয়ার সাথে সামরিক এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। ফলে তারা এখন আর একা নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার পুরনো বন্ধুদের হারিয়ে ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে। ট্রাম্পের হুমকি এখন আর তেহরানকে আগের মতো ভীত করতে পারছে না।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে?
যদি এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি বজায় থাকে, তবে ট্রাম্পকে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে একাই বিশাল খরচের এবং ঝুঁকির দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু বর্তমান মার্কিন অর্থনীতি সেই চাপ সইতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ভবিষ্যতে হয়তো ওয়াশিংটনকে নমনীয় হতে হবে। মিত্রদের ছাড়া বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্ব এখন বহুমুখী মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একক ইচ্ছা আর চলবে না।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
হরমুজ প্রণালি ও উত্তাল পারস্য উপসাগর: ইরানের আধিপত্য কমাতে ব্রিটেনের ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা
বিশ্ব ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রভাব
এই পরিস্থিতির প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। অন্যান্য দেশগুলো এখন থেকে মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে আসার সাহস পাবে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংকটে দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকে সবার উপরে রাখবে। জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে কারণ যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। নতুন নতুন জোট তৈরি হবে এবং পুরনো জোটগুলো ভেঙে যেতে পারে। এটি একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতি অনেক বেশি জটিল। শক্তি প্রয়োগ করে এখানে টিকে থাকা অসম্ভব। ট্রাম্পের ইরান নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে এক গভীর গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। এই যুদ্ধে মিত্রদের অসম্মতি কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ওয়াশিংটন যদি তার যুদ্ধবাজ নীতি পরিবর্তন না করে, তবে তারা আরও সঙ্গীহীন হয়ে পড়বে। মিত্রদের সাথে নিয়ে চলার মানসিকতা না থাকলে বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়া অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে হয়তো একা পথ চলতে হবে, যা আমেরিকার জন্য মোটেও সুখকর হবে না। মিত্রদের অবজ্ঞা করার যে চড়া মূল্য ওয়াশিংটন দিচ্ছে, তা ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে। এই সংকটের সমাধান কেবল যুদ্ধ নয়, বরং সম্মানজনক সমঝোতার মধ্যেই নিহিত। নতুবা মার্কিন আধিপত্যের শেষ চিহ্নটুকু মুছে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata