সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩ (রোমান্টিক প্রেমের গল্প)

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩ | রোমান্টিক প্রেমের গল্প | নওরোজ বিপুল | ব্যাঙেরছাতা

সম্পর্কের গন্তব্য

রোমান্টিক প্রেমের গল্প

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

নওরোজ বিপুল

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩। কলিংবেল বাজলে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো শিলা। রাত সাড়ে নয়টা বাজে। অফিস থেকে বাসায় ফিরতে এতরাত পর্যন্ত দেরি করে না সোহেল। আজ দেরি হলো। দেরি যে হবে সেটা সেট আগে থেকে বলেও নি। কিছুটা চিন্তিত ছিল শিলা। চিন্তা করছিল আর বসে বসে টিভির দিকে তাকিয়ে ছিল সে। আগে থেকে জানালে শিলা চিন্তা করতো না।

টিভি চালুই থাকলো উঠে এসে দরজা খুললো শিলা। হ্যাঁ, সোহেলই এসেছে। শিলাকে পাশ কেটে ভেতরে ঢুকলো সোহেল। দরজা লাগিয়ে ফিরতেই বাধা পেলো শিলা। সোহেল ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঠোটে একটা কিস করে দিলো।

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

শিলা কিছু বুঝে উঠার আগেই, ব্যাপারটা একটু দ্রুতই ঘটলো তাড়াতাড়ী করে সে ছেলে-মেয়েদের ঘরের দিকে তাকালো দেখলো ওদের ঘরের দরজা খোলা আছে কি না। দরজা খোলা নাই কিংবা আশে-পাশে ওর ছেলে-মেয়ে কিংবা পিউলী কোথাও নাই। অফিস থেকে ফিরে কোন কোন দিন সোহেল এমন হুটহাট করে চুমু টুমু দেয় শিলার ঠোটে। সে বলে, মাঝে মাঝে বউকে এই রকম একটু আধটু আদর টাদর না করলে, স্বামী-স্ত্রী’র ভালোবাসা অটূট থাকে না।

সোহেলের বাহুডোর থেকে ছাড়া পেয়ে, ওর বুকে আস্তে করে একটা কিল দিলো শিলা। ওর হাত থেকে লান্স বক্সটা নিলো। সোহেল বেডরুমে আসলে শিলাও ওর পিছু পিছু আসলো। সোহেল বলল, ‘শোন, তোমার বান্ধবীর জন্য একটা অত্যাধুনিক ফ্ল্যাটের খোঁজ পেয়েছি।’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

শিলাকে বেশ অতি উৎসাহী দেখালো। জানতে চাইলো, ‘তাই নাকি, কোথায়?’

‘কোথায় সেটা পরের ব্যাপার, তবে তার আগে আরো কিছু ব্যাপার আছে।’

‘আরো ব্যাপার আছে মানে কি?’

মানে কি সেটা শিলাকে খুব ভালোভাবে, বিস্তারিত বলে বোঝালো সোহেল। সম্পূর্ণ ব্যাপারটা বুঝে নেয়ার পর ভ্রু-কুঁচকাল শিলা। তারপরেও সে ব্যাপারটা নিয়ে পিউলীর সাথে আলাপ করতে চাইলো। যদি ব্যাপারটা পিউলী ভালোভাবে নেয় তাহলে তো সমস্যা নাই।

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

মেয়ে নিপার ঘরে আসলো শিলা। পড়ার টেবিলে বসে পড়ছে নিপা। পড়ার টেবিলের পাশে বিছানায় বসে আছে পিউলী। রিপার পড়া দেখিয়ে দিচ্ছে। এই একটা ব্যাপার খুব ভালো হয়েছে। যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণ রিপাকে পড়ায় পিউলী। সে এখান থেকে চলে গেলে নিপা এই সাহায্যটা আর পাবে না। বিছানায় পিউলীর পাশে বসলো শিলা। কিছুক্ষণ এটা ওটা বলল। মেয়ের সাথেও কথা বলল। শেষে পিউলীকে বলল, ‘আয়তো, তোর সাথে একটু কথা আছে।’

‘মামনি, তুমি এই অংকগুলো একা একা একটু করার চেষ্টা করো, হ্যাঁ?’ নিপাকে বলল পিউলী, ‘আমি একটু পরেই আসছি।’

‘ওকে, খালামুনি!’ বলে অংকের খাতাটা টেনে নিলো রিপা।

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

বেলকনিতে আসলো দুই বান্ধবী। বেলকনিটা মোটামোটি বড়ই। বাসাায় নতুন সোফা কেনার পর, পুরাতন সোফাগুলো এই বেলকিতেই রাখা হয়েছে। সোহেল সোফাগুলো বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। শিলা বিক্রি করতে দেয়নি। বেলকনিতে রেখে দিয়েছে। দুই বান্ধবী সোফায় বসলো। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে বান্ধবীর দিকে তাকালো পিউলী। ওর দৃষ্টির অর্থ বুঝেই শিলা বলল, ‘তোর জন্য রেডিমেইড একটা স্বামী পাওয়া গেছে।’

কপালের চামড়া জড়ালো পিউলী। চেহারায় ইতস্ততের একটা ভাব ফুটে উঠলো। জানতে চাইলো, ‘মানে কি?’

‘মানে হলো, তোর দুলাভাইয়ের কলিগের বউয়ের কলিগ…’

‘এক মিনিট… এক মিনিট… ’ শিলাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে বলল পিউলী, ‘আমি ভালো করে বুঝে নেই। দুলাভাইয়ের… কলিগের… বউয়ের… কলিগ…, হুম, বুঝে নিয়েছি। এবার বল।’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

‘ছেলেটা একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।’

‘তো, সেই ছেলেকে দিয়ে আমি কী করবো?’

‘এই ছেলেটায় তোর রেডিমেইড স্বামী!’

‘আরেকটু খুলে বল।’

‘ছেলেটা যে মেসে থাকে, সেটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সে, থাকার ব্যবস্থা নিয়ে তোর মতই ঝামেলায় পড়েছে।’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

‘অর্থাৎ অবিবাহিত ছেলে, বউ ছাড়া কেউ বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে না, তাই না?’

‘হুম, এই তো বুঝতে পেরেছিস!’

‘তো, এখানে ছেলেটা আমার রেডিমেইড স্বামী হলো কি করে?’

কি করে হলো সেটা শিলা বোঝালো পিউলীকে। আজ অফিস থেকে বের হওয়ার সময়, সোহেলের সহকর্মী আবির মোবাইল ফোনে তার বউয়ের সাথে কথা বলছিল। কথাবার্তার ভাষা শুনে সোহেল বুঝলো যে, বউয়ের সাথে কারো বাড়ি ভাড়া নেয়ায় সমস্যা হওয়ার কথা আলাপ করছিল আবির। ফোনে আবিরের কথা বলা শেষ হলে সোহেল ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। তখন আবির বলেছিল, ওর বউয়ের একজন পুরুষ কলিগ, অবিবাহিত হওয়ায় কিছুতেই একটা বাড়ি ভাড়া পাচ্ছে না।

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

সেই জন্যই বউ তাকে বলেছিল, সে যেন তার কলিগকে একটা বাড়ি ভাড়া করে দেয়ার ব্যাপারে সাহায্য করে। সাহায্য করতে গিয়ে, পরিচিত একজনের একটা ফ্ল্যাট খালি পেয়েছে আবির। দুই মাস হলো তবু ফ্ল্যাটটা ভাড়া দেয়া হয়নি। এ্যাপার্টমেন্টের মালিকের মেয়ে থাকতো সেই ফ্ল্যাটে। মাস দুয়েক আগে স্বামীর সাথে বসবাস করার জন্য সেই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছে। খুব তাড়াতাড়ী সেই মেয়ের দেশে ফেরা হবে বলেও মনে হয় না। ফ্ল্যাটটা খালিই পড়ে আছে। ভাড়া দেবার ব্যাপারেও মালিকের তেমন একটা আগ্রহ নেই।

পরিচিত হওয়ায় আবির ফ্ল্যাটটার ব্যাপারে ভদ্রলোকের সাথে আলাপ করেছিল। আবিরের সাথে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় ভদ্রলোক ফ্ল্যাটটা ভাড়া দেয়ার জন্য রাজি হয়েছেন। অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিবাহিত ছেলে বা মেয়ে হলে তিনি ফ্ল্যাট ভাড়া দেবেন না। ব্যাপারটা নিয়েই বউয়ের সাথে আলাপ করছিল আবির।

কিছু একটা ভেবে সোহেল বলল, ‘আবির ভাই, এমন একটা সমস্যা নিয়ে আমিও আছি।’

‘আপনার আবার কী সমস্যা?’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

‘আমার বউয়ের বান্ধবী, প্রায় চার মাস ধরে আমাদের সাথে আছে।’ বলল সোহেল, ‘এখন সে চাইছে, সে আলাদা একটা বাসা নিয়ে থাকবে। কিন্তু, সমস্যা ঐ একটায়। অবিবাহিতা মেয়ে, কেউ বাসা ভাড়া দিচ্ছে না।’

এ পর্যায়ে আবির আবিরও কিছুটা সময় নিয়ে ভাবলো। ভাবনা শেষ করে বলল, ‘সোহেল ভাই, একটা কথা বলি?’

‘বলেন।’

‘আপনার বউয়ের বান্ধবী আর আমার বউয়ের বন্ধুকে স্বামী-স্ত্রী সাজিয়ে ঐ ফ্ল্যাটে তুলে দিলে কেমন হয়?’

‘কিন্তু ব্যাপারটা কেমন হয়ে যাচ্ছে না? অবিবাহিত দুটি ছেলে-মেয়ে…’

সোহেলকে কথা শেষ করতে দিলো না আবির। ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘সোহেল ভাই শোনেন, ওরা দুজনেই সমস্যায় আছে। সুতরাং দুজন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ফ্ল্যাটে উঠুক। দুজন দুই রুমে থাকবে। বাহিরের মানুষেরা ওদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জানবে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ওরা স্বামী-স্ত্রীর মত থাকলো না। তাছাড়া দুজনেই তো চাকুরী করে, সারাদিন কেউই বাসায় থাকবে না। দেখা যাবে যে, একই ফ্ল্যাটে থাকলেও দিনের পর দিন দুজনার দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছেই না।’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

‘কথাটা খারাপ বলেননি।’ বলল সোহেল, ‘কিন্তু আবির ভাই, ছেলেটা যদি কোনো সমস্যা করে? আমার এলাকার মেয়ে, আমার উপর ভরসা করে ঢাকায় এসেছে। এক্ষেত্রে আমার একটা দায়িত্ব কিন্তু থেকে যায়।’

‘এই ব্যাপারটা নিয়ে আপনি একেবারেই ভাববেন না, সোহেল ভাই।’ বলল আবির, ‘ছেলেটার ব্যাপারে সব ধরণের নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি ওকে চিনি, আপনার ভাবীর সাথে সে একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখাও করেছে। অত্যন্ত ভদ্র একটা ছেলে। আজকালকার দিনে এমন ছেলে দেখা যায় না। তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ার ছেলে, সারাদিন কম্পিউটার ল্যাপটপ ইন্টারনেট এইসব নিয়েই পড়ে থাকে। মেয়েদের সাথে ঝামেলা করার সময় কোথায় তার? সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনি আর আমি তো আছিই। সার্বক্ষণিক ওদের খোঁজ খবর রাখবো।’

‘যাক ভাই, আপনার কথা শুনে ভরসা পেলাম।’ বলল সোহেল, ‘তাহলে দেখি, বাসায় গিয়ে আপনার ভাবীর সাথে আলাপ করি। যদি আপনার ভাবী আর ওর বান্ধবী রাজি হয় তাহলে কাল এসে আপনাকে জানাব।’

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-৩

বাসায় এসে বউয়ের সাথে আলাপ করলো সোহেল। শিলা এসে কথাটা বলল পিউলীর কাছে। সবকিছু শোনার পর একেবারেই দো-টানায় পড়ে গেলো পিউলী। রেডি মেইড স্বামীর কথা তো সে ফান করে বলেছিল। সেই ফান যে সত্যি সত্যি এসে ওর দুয়ারে হাজির হবে তা তো একেবারেই ভাবেনি। পিউলীকে গভীরভাবে চিন্তা করতে দেখে শিলা বলল, ‘কী ভাবছিস?’

সাথে সাথেই শিলার কথার জবাব দিলো না পিউলী। আরো কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলো অত:পর বলল, ‘ঠিক আছে, দুলাভাই যখন তার বন্ধুকে কথা দিয়েই এসেছ, তখন একদিন চল, ছেলেটার সাথে পরিচিত হই। পরিচিত হয়ে ছেলেটাকে ভালো মনে হলে, তখন দেখা যাবে কী করা যায়।’

পিউলীর কথা শুনে হাসিই ফুটলো শিলার মুখে। ফিরে গিয়ে সে স্বামীর কাছে পিউলীর সব কথা বলল। আগামীকাল অফিসে গিয়ে, সহকর্মী আবিরের সাথে আলাপ করে, ওদের দুজনকে পরিচিত করার একটা ব্যবস্থা করবে।

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

পূর্ববর্তী পর্বগুলো পড়তে ক্লিক করুন:

০১। সম্পর্কের গন্তব্য (রোমান্টিক প্রেমের গল্প): প্রথম পর্ব

০২। সম্পর্কের গন্তব্য (রোমান্টিক প্রেমের গল্প): দ্বিতীয় পর্ব

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *