
সম্পর্কের গন্তব্য
রোমান্টিক প্রেমের গল্পে
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
নওরোজ বিপুল
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১। অবশেষে হতাশ হয়েই পড়লো পিউলী। অবিবাহিতা শুনে কোন বাড়িওয়ালা বা বাড়িওয়ালীই ওকে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে না। এই মূহুর্তে ওর স্বামী তো নাই। মনে হচ্ছে, কোথাও যদি একটা স্বামী ভাড়া পাওয়া যেত, তাহলে তাকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে একটা বাড়ি ভাড়া নিতো সে। কথাটা মনে হতেই, একবার মনে মনে নিজেই সে হাসলো।
পিউলী একটা টিভি চ্যানেলে চাকুরী করে। অফিস থেকে একদিনের ছুটি নিয়েছে সে। ছুটির দিন সাথে সাপ্তাহিক ছুটির দিন, দুই দিন ধরে রাত দিন এক করে বাড়ি ভাড়া নেয়ার জন্য ছুটে বেড়িয়েছে সে। ছুটির সেই দুই দিন আজই শেষ। আজ বের হয়ে অফিসের আশে-পাশেই এক মহল্লায় ঢুঁ মারলো সে। বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো একটা ‘বাড়ি ভাড়া দেয়া হবে’ স্টিকার দেখতে পেলো। স্টিকারটা থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিলো। কল করলো সেই নম্বরে। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর এক মধ্যবয়সী ভদ্রমহিলার সারা পাওয়া গেলো ‘হ্যালো, কে বলছেন?’
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
‘নাম বললে আপনি চিনবেন না।’ জবাবে বলল পিউলী, ‘আপনারা যে ‘বাড়ি ভাড়া দেয়া হবে’-র নোটিশ লাগিয়েছেন, সেটা দেখেই আমি ফোন করেছি।’
‘আইচ্ছা, বুঝবার পারছি। লিফলেটে ঠিকানা দেয়া আছে, সেইখান থেইকা ঠিকানা নিয়া চইলা আসেন।’
ঠিকানাটা নোট করলো পিউলী। পাশের এক দোকানদারকে ঠিকানাটা জিজ্ঞেস করলো। দোকানদার জানালো, মহল্লার গলি দিয়ে পিউলীকে কিছুটা ভেতরে যেতে হবে। সেখানে বাম দিকে আরেকটা গলি গেছে। সেই গলি দিয়ে চার বাড়ি যাওয়ার পর পিউলী ঠিকানার বাড়িটা পাবে। লোকেশন শুনে পিউলী জিজ্ঞেস করল, ‘চাচা, কিছুদূর বলতে কি রিকশা নিয়ে যেতে হবে, নাকি হেটেই যেতে পারব?’
‘রিকশা লওনের দরকার নাই। হাইট্টাই যাইতে পারবেন।’ বলল দোকানদার, ‘বাড়িটা বেশি দুরে না।’
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
পিউলী দোকানদারকে ধন্যবাদ দিলো। দোকানদারের বলে দেয়া লোকেশন অনুযায়ী বাড়িটা খুঁজে পেলো। তিনতলার ডান পাশের বেলকনিতে ‘বাড়ি ভাড়া’ লেখা একটা সাইনবোর্ড দেখতে পেলো। বুঝতে পারলো এই বাড়িটায়। আগেই সে ফোন করে জেনে নিয়েছে, বাড়িওয়ালা থাকে দুই তলায়। দুই তলার বাম পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় কলিংবেল বাজালো সে। একটু পরেই খুললো একজন ভদ্রমহিলা। পিউলী বলল, ‘কিছুক্ষণ আগে আমিই ফোন করেছিলাম।’
‘আইচ্ছা আইচ্ছা, আপনি একটু খানি খাড়ান আমি আইতেছি।’
দরজা আবারো লাগালো ভদ্রমহিলা। এক মিনিট পরে আবার খুললো। ভদ্রমহিলার হাতে চাবি।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
নিষেধাজ্ঞা বনাম ক্ষোভ: ইরানের অর্থনৈতিক ধস কীভাবে একটি গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিল?
‘চলেন, কতা কওনের আগে ফেলাটটা দেইখ্যা লই।’
যুক্তিসঙ্গত কথায় বলেছে ভদ্রমহিলা। আলাপ-আলোচনা করার আগে বাসা দেখে নেয়াই ভালো। এই ভদ্রমহিলাই সম্ভবত বাড়িওয়ালী। আচার-আচরণ দেখে সেটাই মনে হচ্ছে। ভদ্রমহিলা সামনে সামনে চলল, পিউলী তার পিছু পিছু সিড়ি বেয়ে তিন তলায় চলে আসলো। হাতে ধরা চাবির গোছা থেকে একটা চাবি ধরে সেটা দিয়ে তালা খুললো ভদ্রমহিলা। অর্থাৎ বাসাটা আপাতত ফাঁকা। আগে মহিলা ভেতরে ঢুকলো আলো জ্বালালো পরে ভিতরে ঢুকলো পিউলী।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
দুই রুমের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট। ডাইনীং স্পেস আছে। একটা রুমের সাথে এ্যাটাচ্ড বাথরুম। আরেকটা বাথরুম আছে- কমন। আলাদা একটা কিচেনও আছে। সম্পূর্ন ফ্ল্যাট টাইলস করা। প্রত্যেকটা জানালায় থাই গ্লাস লাগানো। ফ্ল্যাটটা দেখে ভালোই লাগলো পিউলীর। ওর জন্য ফ্ল্যাটটা পারফেক্ট মনে হলো।
ফ্ল্যাট দেখা শেষ হলে ভদ্রমহিলা আবার পিউলীকে নিয়ে নিজের বাসায় চলে আসলো। পিউলীকে বাসা ভাড়া দিক বা না দিক, ভদ্রমহিলার মধ্যে একটা সৌজন্যবোধ দেখতে পেলো পিউলী। ভাড়ার আলোচনা শুরুর আগে ওকে চা আর বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
‘তুমি কইরাই বলি, নাকি?’ কথা শুরুর আগে বলল বাড়িওয়ালী ভদ্রমহিলা।
‘জি আন্টি, জি অবশ্যই।’ বলল পিউলী, ‘আমি তো আপনার ছোটই হবে।’
‘তা মা, ফেলাট তোমার পছন্দ হইছে?’
‘জি আন্টি, পছন্দ হয়েছে।’
‘তাহলে আলাপ করা যেতেই পারে। কী বলো?’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, আলাপ করা যেতে পারে।’
‘তো মা, তোমার ছেলে-মেয়ে কয়টা?’
প্রশ্নটা শুনেই মুখটা শুকিয়ে গেলো পিউলীর। অন্য বাড়িওয়ালারা প্রথমেই জিজ্ঞেস করতো, স্বামী কি করে? এই ভদ্রমহিলা আবার এক কাঠি উপরে। সরাসরি বাচ্চার কথা জানতে চাইছে। এখন দেখি বাচ্চাও ভাড়া করতে হবে।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
‘জি… মানে… আন্টি…’ বাড়িওয়ালীল প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আমতা আমতা করলো পিউলী।
‘বুঝছি বুঝছি, বাচ্চা-কাচ্চা অহনো হয় নাইক্কা।’ বলল বাড়িওয়ালী, ‘তো মা, বিয়া হইছে কতদিন হইলো?’
পিউলী বুঝে ফেললো যে, এই বাড়িটাও সে ভাড়া পাচ্ছে না। বাড়িওয়ালীর প্রশ্নের জবাবে বলল, ‘আন্টি, আমার এখনো বিয়েই হয়নি!’
ভ্রæ-কুঁচকে পিউলীর দিকে তাকালো বাড়িওয়ালী ভদ্রমহিলা। বলল, ‘তোমার বাচ্চা-কাচ্চা নাই, এখনো বিয়েই হয়নি, তাহলে মা তুমি আমার ফেলাটে কারে নিয়া থাকবা?’
‘থাকব তো আমি একাই। ভাড়ার ব্যাপারে আপনাকে কোনো চিন্তা করতে হবে না, আন্টি। ঠিক এক তারিখেই আপনাকে আমি ভাড়া পরিশোধ করে দিব।’
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
বাড়িওয়ালী এবার আর নরম সুরে কথা বললেন না। নরম গরম মিশিয়ে এক ধরণের সুরে বলল, ‘শোনা মা, আমি টাকার জন্যই বাড়ি ভাড়া দিই, তা ঠিক আছে। কিন্তু আমি অবিবাহিত ছেলে কিংবা মেয়ে কাউরে বাড়ি ভাড়া দেই না। এই এলাকায় ব্যাচেলর ভাড়া দেয়া নিষেধ। তুমি মা, অন্য কুনহানে বাড়ি খুঁইজা লও।’
‘আন্টি, আমার ক…’
শব্দটা ‘ক’ পর্যন্তই থাকলো। পূর্ণ করতে পারলো না পিউলী। বাড়িওয়ালীকে একটা হাত তুলতে দেখে থামলো সে। উঠানো হাতটা দিয়ে দরজা দেখালো বাড়িওয়ালী। অর্থাৎ পিউলীকে এখন চলে যেতে হবে। যেখানে সে বসেছে তার পাশেই রেখেছিল নিজের হাতব্যাগটা। বাম হাতে হাতব্যাগটা তুলে নিয়ে বের হয়ে আসলো পিউলী। এই বাড়িওয়ালী তবু তো ওকে কিছুটা সৌজন্যবোধ দেখিয়েছে কিন্তু অন্যান্য বাড়িওয়ালা/বাড়িওয়ালীরা এইটুকু সৌজন্যবোধও দেকায়নি। অবিবাহিতা মেয়ে শুনে কোনো কোনো বাড়িওয়ালা তাদের ফ্ল্যাটটাও দেখায়নি।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
দুই দিন চেষ্টা করেও একটা বাড়ি ভাড়া করতে না পেরে অবশেষে হতাশ হয়েই পড়লো পিউলী। আজ অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আর কোনো বাড়ি দেখতে গেলো না। ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। একটা রিকশা ডেকে তাতে উঠে পড়লো সে।
চারমাস হলো একটা টিভি চ্যানেলে চাকুরীতে ঢুকেছে পিউলী। গত এই চারমাস সে তার ছোটকালের বান্ধবী শিলার বাসায় থাকছে। একই গ্রামে বাড়ি শিলা আর পিউলীর। স্কুল আর কলেজে একই সাথে পড়াশুনা করেছে তারা। শিলা গ্রামের ধনী পরিবারের মেয়ে। কলেজের গণ্ডি অতিক্রম করার পর শিলার বাবা-মা ওকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। শিলার স্বামী ঢাকায় চাকুরী করে। স্বামীর সাথে শিলা বিয়ের পর থেকে ঢাকাতেই বসবাস করে। অন্যদিকে পিউলী গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারকে তেমন একটা অবস্থা সম্পন্ন পরিবার বলা চলে না। ধনী পরিবারের ছেলে/মেয়েদের বেশি পড়ালেখা না করলেও চলে। তারা পড়ালেখা করলেও সেটা শখের বশে করে। মধ্যবিত্ত বিত্ত পরিবারের ছেলে/মেয়েদের পড়ালেখা না করলে চলে না। পড়ালেখা করাটা তাদের প্রয়োজন, তাদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। শিলার বিয়ে হয়ে গেলেও পিউলী পড়ালেখাটা চালিয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারী কলেজ থেকে সে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
পড়ালেখা শেষ করার পর পিউলী একটা চাকুরী করার চিন্তা করছিল। ওদিকে ওর বাবা ওকে বিয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছিলেন। অনেক কষ্টে বাবাকে সে সেই চিন্তা থেকে সরিয়ে আনতে পেরেছে। বাবাকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়েছে যে, সে এখন একটা চাকুরী করতে চায় এবং তারপরে ওর বাবা যদি ওর বিয়ে দিতে চান, তাহলে সে তার বাবার সিদ্ধন্ত মেনে নিবে। বাবা-মাকে ওকে যার সাথেই বিয়ে দেবেন, চোখ বন্ধ করে তাকে বিয়ে করবে পিউলী।
বর্তমান চাকুরীটা পিউলী তার বাবার কল্যানেই পেয়েছে। স্থানীয় এক সাংবাদিকের সাথে পিউলীর বাবার খুব ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব আছে। যে টিভি চ্যানেলে পিউলী চাকুরী করছে সেই টিভি চ্যানেলেরই সাংবাদিক বাবার সেই বন্ধু। চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে তাঁর সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ট। তিনিই চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পিউলীর চাকুরীর ব্যাপারে বলেছিলেন। টিভি চ্যানেলটি নতুন। এখানে কাজ করার জন্য প্রচুর উচ্চ শিক্ষিত ছেলে/মেয়ে দরকার। টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিউলীকে ঢাকায় পাঠাতে বলেছিলেন। পিউলী আসলে প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নিয়ে সেদিনই ওকে নিয়োগ দেয়া হয়। যেহেতু পিউলীর কোন অভিজ্ঞতা নেই, তাই তাকে শিক্ষানবিশ নিউজ এডিটর হিসেবে নিউজরুমে বসিয়ে দেয়া হয়।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
চাকুরীতে যোগদান করার পর বান্ধবীর বাসাতেই থাকছে পিউলী। কিন্তু বান্ধবীর বাসায় এতদিন থাকাটা তার কাছে ভালো মনে হচ্ছে না। বান্ধবী শিলার একটা ছেলে, একটা মেয়ে। মেয়েটার নাম নিপা- সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। কিছুটা বড়ই বলা যায় নিপাকে। নিপার সাথে ওর ঘরেই থাকতে হচ্ছে পিউলীকে। কিন্তু এভাবে থাকা যাবে না। শিলা, শিলার স্বামী কিংবা ওর ছেলে-মেয়েরা এখনো মুখ ফুটে ওকে কিছু বলেনি। বলার আগেই শিলার বাসা থেকে বের হয়ে গিয়ে৷ নিজের একটা ঠিকানা খুঁজতে হবে পিউলীকে। ঢাকা শহরে নিকটাত্মীয়রাও বাসায় সাতদিনের বেশি কোনো গেষ্ট থাকলে বিরক্তবোধ করে। সরাসরি কিছু না বললেও আচার আচরনে তা বুঝিয়ে দেয়। সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১ শিলার বাসায় অবশ্য এখনো তেমন কোনো আচরণ কারো কাছ থেকে পায়নি পিউলী। তেমন আচরণ পেতেও চায় না। তাতে সম্পর্ক নষ্ট হবে। প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর সাথে পিউলী কখনোই সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। সবকিছু ভেবে চিন্তেই কয়েক দিন ধরে বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছে পিউলী।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
কিন্তু পিউলী এখন একটা স্বামী কোথায় পায়? এতটা তাৎক্ষণিকভাবে তো বিয়েও করা সম্ভব নয়। বিয়ে করার জন্য একটা ছেলে দরকার। যেমন তেমন একটা ছেলে হলেও তো হবে না। উচ্চ শিক্ষিতা মেয়ে পিউলী। ওর যোগ্য উচ্চশিক্ষিত একটা ছেলে দরকার। তেমন ছেলে পাওয়া গেলেও তো হবে না। এখানে অভিভাবকদের হস্তক্ষেপ দরকার। পিউলীর অভিভাবকরা ছেলের ব্যাপারে যাবতীয় খোঁজ খবর নেবে। আবার ছেলের অভিভাবকরা পিউলীর ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবে। দুই পক্ষের অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট হলে তারপরেই না বিয়ের প্রশ্ন। এসব তো অনেক সময় সাপেক্ষ। এই মূহুর্তে রেডি মেইড একটা স্বামী পাওয়া গেলে মনে হয় ভালোই হতো!
পিউলীর কাছে এই রেডি মেইড স্বামীর কথা শুনে শিলা প্রচন্ড হাসলো। ওর হাসির সাথে যোগ দিয়ে পিউলীও হাসলো। হাসি থামিয়ে শিলা বলল, ‘আচ্ছা পিউলী, আমার এখানে তোর কোনো সমস্যা হচ্ছে?’
‘না তো!’ বলল পিউলী, ‘এমন কথা বলছিস কেন?’
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
‘এই যে, আমার বাসা ছেড়ে চলে যেতে চাইছিস।’
‘শিলা শোন, তুই বুদ্ধিমতী মেয়ে। তোকে সবকিছু বিস্তারিত বলার দরকার নাই।’ বলল পিউলী, ‘তোর বাসা ছেড়ে আমি যেতে চাচ্ছি তার সবচেয়ে বড় কারণ, এটা ঢাকা শহর।’
‘বাস্তবতা চিন্তা করলে তোর কথার যুক্তি আছে। কিন্তু…’
‘আবার কিন্তু কি?’
‘তোকে আমি একা একা কিভাবে ছাড়ি বলতো?’
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
‘তুইও ঢাকায় এক সময় একা একায় এসেছিস, শিলা। এখন দেখ, তুই একা একায় বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাস, নিয়ে আসিস। তাই না?’
‘তা ঠিক। আচ্ছা, তুই আমাকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছিস যা, আটকাব না।’ বলল শিলা, ‘একা একা তো বাসা খুঁজে পেলি না। দাড়া, আজ নিপার আব্বু আসুক, ওকে তোর কথা বলব। সে নিশ্চয় তোর জন্য একটা বাসার ব্যবস্থা করবে।’
‘ঠিক আছে, বলিস।’
শিলার স্বামী অফিস থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলে, পিউলীর ব্যাপারটা নিয়ে স্বামীর সাথে আলাপ করলো শিলা। শিলা বান্ধবীর প্রতি উদার হলেও ওর স্বামী সোহেল ততটা উদার মানুষ নয়। প্রতিষ্ঠিত একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করে সোহেল। বেতনও প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই পায়। গত প্রায় চার মাস ধরে বউয়ের বান্ধবী চেপে বসেছে ওর ঘাড়ে। সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১ বউ অসন্তুষ্ট হবে বলে কিছু বলতেও পারছে না। কিন্তু উটকো একটা খরচের সম্মুখীন ঠিকই হচ্ছে সোহেল। তাছাড়া ওদের ছেলে-মেয়েরা বড় হচ্ছে। ওরা বড় হচ্ছে মানে খরচ আরো বাড়ছে। এমন অবস্থায় পিউলী এখানে কতদিন থাকবে তা অনুমানও করতে পারছিল না সোহেল। শিলার কাছ থেকে পিউলীর কথা শুনে কিছুটা স্বস্তি পেলো সে। পিউলীর রেডি মেইড স্বামীর কথা শুনে সোহেলও বেশ মজা পেলো প্রাণ খুলে হাসলো সেও।
সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata