
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো কেমন হতে পারে? ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট তথাকথিত ও মেটিকুলাস ডিজাইনের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়। সেই পতনের সূত্র ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মূলত- অর্থনীতি থেকে শুরু করে, এমন কোনো সেক্টর নেই যা ধ্বংস করেনি। দেশের ধ্বংসাত্মক একটি পরিস্থিতি থেকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শপথ নিয়েছে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার। জাতীয় সংসদে যাদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা কতটা সহজ হবে? আমার এই আর্টিকেলটিতে সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং “ছাত্র-জনতা”র তথাকথিত আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। এর মাধ্যমেই শুরু হলো দেশের এক নতুন অভিযাত্রা। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের আড়ালে উঁকি দিচ্ছে এক কঠিন বাস্তবতা। রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। মূলত, নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে শপথ গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই। জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ এবং ইউনুসীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করাই এখন প্রধান কাজ। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণেও উঠে আসছে যে, আগামীর পথ হবে কণ্টকাকীর্ণ।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দম বন্ধ করা শাসনের পর গণতন্ত্রে ফিরে আসা একটি বড় বিজয়। তবে এই বিজয়কে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। নির্বাচনের পর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এপি-তে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করা এখন সময়ের দাবি। নতুন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পেশাজীবী ও তরুণদের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হবে কি না তা নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বর্তমান সংসদ সেই বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে কি না সময়ই বলে দেবে।
অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা ও পুনর্গঠন
প্রথমেই বলা প্রয়োজন, ইউনুসীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং মেগা প্রজেক্টের নামে দুর্নীতির ফলে রাজকোষ প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছিল। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় খবর এসেছে যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নাকি ৩৪.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, তবুও মূল্যস্ফীতি এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আল-জাজিরা ও দ্য ইকোনমিস্ট-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে সরকারের জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন টপ প্রায়োরিটি।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
ছায়া মন্ত্রীসভা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পারবে?
ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণ
ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ উদ্ধার করা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য এক বিশাল পরীক্ষা। সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ঋণগুলো চিহ্নিত করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। মুদ্রানীতি এবং রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা জরুরি। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য একটি স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করাও এই সরকারের জন্য একটি বড় বাধ্যবাধকতা।
প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে দলীয়করণের শিকার হয়েছে। পুলিশ, দুদক এবং নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সঠিক স্থানে পদায়ন করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ‘ই-গভর্ন্যান্স’ বা ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। গত কয়েক দিনের সংবাদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিচারপতির নিয়োগ থেকে শুরু করে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পর্যন্ত সব জায়গায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্রের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
কর্মসংস্থান ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন
২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণ প্রজন্ম। তাদের প্রধান দাবি ছিল বৈষম্যমুক্ত সমাজ এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আইটি সেক্টর বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিং এবং টেক-স্টার্টআপগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের এই বিশাল শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা এই সরকারের জন্য একটি কূটনৈতিক পরীক্ষা। ভারতের সাথে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য জরুরি। রাশিয়ার সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও কৌশলী হতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। ওয়াশিংটন পোস্টের এক কলামে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সফল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মানবাধিকার
ইউনুসীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা উপড়ে ফেলা জরুরি। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচারের আওতায় এনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে বিগত দিনের সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা নতুন সরকারের নৈতিক বাধ্যবাধকতা।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা
দেশের শিল্পকারখানাগুলো গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার পূর্বশর্ত। আদানি গ্রুপের সাথে বিদ্যুৎ চুক্তি বা রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর উচ্চমূল্য পুনর্মূল্যায়ন করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারকে দূরদর্শী হতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন
করোনা মহামারি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের কঙ্কালসার অবস্থা উন্মোচিত করেছিল। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে আর যা-ই ঘটুক না কেন, তারা বছরের প্রথম দিনই প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দিতে সফলতা অর্জন করেছিল। ইউনুসীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে সেই ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো পুনরায় বছরের প্রথম দিনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া। এই চ্যালেঞ্জে ব্যর্থ হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই।
সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালচক্র নির্মূল করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। একইভাবে শিক্ষা খাতের সংস্কারও অপরিহার্য। দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ এবং কারিকুলামে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা জরুরি। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। একটি শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি গঠন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না।
অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা
ইউনুসীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষ সময়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে যেগুলো লাভজনক, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো বন্ধ করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বা কর্ণফুলী টানেলের মতো প্রকল্পগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে সফল অবকাঠামো উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী
দেশের একটি বড় অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী বা সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্কের সুবিধা যেন প্রকৃত দুস্থরা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে ভাতা বণ্টন এবং ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন না হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করাও সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ: দুর্নীতি দমন
দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা এবং প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। সুইস ব্যাংক বা দুবাইয়ের প্রপার্টি মার্কেটে বাংলাদেশিদের অবৈধ বিনিয়োগের তথ্য বের করা এবং সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
গণভোটে মেটিকুলাস ডিজাইন: ভোট কাস্টিংয়ের হার ২৪৪% কীভাবে কোথায় থেকে অবতীর্ণ হলো?
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রা যেমন আশার, তেমনি শঙ্কারও। জনগণের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকলে এই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু সুযোগও অপরিসীম। এই সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। আমরা আশা করি, দেশপ্রেম এবং সততার সাথে নতুন সরকার সকল বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবে। সংস্কারের এই সংগ্রামে জয়ী হওয়াই হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেরা সাফল্য।
আপনার মতামত বা প্রতিক্রিয়া কী তা কমেন্টে লিখে জানান। আপনার মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata