দেশ চলছে “বাপের দোয়ায়”: বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ, দেশের মানুষকে সরকার কী বার্তা দিচ্ছে?

বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ
দেশ চলছে “বাপের দোয়ায়”: বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ, দেশের মানুষকে সরকার কী বার্তা দিচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার তথাকথিত অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেছিল সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে “ষড়যন্ত্রমূলকভাবে” ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মূলত ঐ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই দেশের সর্বনাশটা করে রেখে গেছে। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যে ধরনের পরিবর্তন ও নিয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা অনেককেই অবাক করেছে। সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটিই কথা—তবে কি দেশ চলছে “বাপের দোয়ায়”? ক্ষমতার বলয়ে পরিবারতন্ত্রের নতুন রূপ কি আমরা দেখতে পাচ্ছি? এই আর্টিকেলে আমরা সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করব।

​বিসিবি ও পরিবারতন্ত্রের নতুন সমীকরণ

ক্রীড়াঙ্গন সবসময়ই রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যে অডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের পুত্ররা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু এই তালিকায় রয়েছেন। এছাড়াও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ সর্বত্রই যেন এক অদৃশ্য সুতোর টান অনুভূত হচ্ছে।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ (তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে একেবারেই সমর্থন করি না। আমি তাঁকে সার্বক্ষণিক সময়ের জন্য একজন “জুলাই সন্ত্রাসী” হিসেবেই আখ্যায়িত করবো। তারপরেও তাঁর বলা কথাটি এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করছি) এই কমিটিকে রূপক অর্থে “বাপের দোয়া কমিটি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, মেধার চেয়ে কি বংশ পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? বিসিবির মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কেন রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের বসাতে হবে? এটি কি সংস্কারের নমুনা?

​বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। বিগত সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের যে অভিযোগ ছিল, তা থেকে উত্তরণই ছিল বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সম্প্রতি ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে মতামত দেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

শান্তির মহাদূত ও তার উপদেষ্টাদের আমলনামা: প্রকাশিত সংবাদের আলোকে লুটপাটের উপাখ্যান বিশ্লেষণ

বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ সর্বত্রই এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি বিচারকরা তাদের নিজস্ব পরিমণ্ডলে স্বাধীনভাবে কথা বলতে না পারেন, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিচার বিভাগের এই পরিস্থিতি সরকারের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সরকার কি আসলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে চায়, নাকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়?

​প্রশাসনিক নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব

প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এখন পরিবর্তনের হিড়িক। কিন্তু এই পরিবর্তন কতটা গুণগত, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত প্রতিটি নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক আশীর্বাদের ছায়া দেখা যাচ্ছে। সাবেক সরকারের দোসরদের সরানোর নামে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর অভিযোগ এখন জোরালো। জেলা প্রশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে যে ‘সিন্ডিকেট’ ছিল, এখন শুধু তার মুখগুলো বদলেছে। সিস্টেমের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত এই পরিবর্তনের ধারা কি সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে? নাকি এটি কেবল ক্ষমতার হাতবদল?

​সালাহউদ্দিন আহমেদের ভূমিকা ও জনমানস

বর্তমান সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে তাকে সরকারের ছায়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও অভিহিত করছেন। তার এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সন্তানদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো সরকারের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত সব সিদ্ধান্ত কি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইশারায় হচ্ছে? সাধারণ মানুষ রাজপথে রক্ত দিয়েছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজের জন্য। কিন্তু যখন দেখা যায় মন্ত্রীদের ছেলেরা কোনো যোগ্যতা ছাড়াই উচ্চপদে আসীন হচ্ছেন, তখন মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়। এই ধরনের কার্যক্রম সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

​গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমন

পূর্ববর্তী সরকার শান্তির মহাদূত ইউনূসের নেতৃত্বে একটি মুক্ত সমাজের কথা বলেছিল। কিন্তু বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। শারমিন চৌধুরীর ভিডিও এবং বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। উম্মে মাহমুদা ঊর্মির মতো কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও মামলা করা কি ভিন্নমত দমনের কৌশল? বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ সবখানে সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কি গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক? সংবাদমাধ্যমগুলো যখন সরকারের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে, তখন তাদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকা জরুরি।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি: যুদ্ধ না বাধলেও সংকট তৈরি হতো, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদৌ কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

​সংসদ ও রাষ্ট্রপতির বিতর্ক

বর্তমান সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভাষণ এবং তাকে দেওয়া ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে নাটকীয়তা কম নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এক সময় বিতর্ক ছিল, আজ তাকেই সরকার ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ এই পরিবর্তনের হাওয়ায় কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না। তবে আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান? নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলো জনগণের মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। সংসদের কার্যকারিতা নিয়েও মানুষ সন্দিহান।

​আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পর্যবেক্ষণ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তাদের বিশ্লেষণেও উঠে আসছে যে, সরকার সংস্কারের চেয়ে প্রশাসনে নিজেদের লোক বসাতেই বেশি ব্যস্ত। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা চান। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা বিনিয়োগের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

​শিক্ষাঙ্গন ও বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ

শিক্ষাঙ্গনেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত সবখানে রাজনীতির ছোঁয়া। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ সর্বত্র যে দলীয়করণের খেলা চলছে, তার প্রভাব থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মুক্ত নয়। মেধাবীরা অবহেলিত হচ্ছে। দলীয় ক্যাডারদের পুনর্বাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে পবিত্র বিদ্যাপীঠগুলো। ছাত্ররা যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছিল, তা কি বৃথা যাবে? যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়বে। সরকারের উচিত এখনই এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া।

​অর্থনৈতিক সংকট ও জনজীবনের প্রভাব

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষ যখন দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য সংগ্রাম করছে, তখন সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিলাসিতা ও আত্মীয়তোষণ মানুষকে হতাশ করছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেয়ে সরকারের উচিত ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি সচল করা। মুদ্রাস্ফীতি ও ডলার সংকটে মানুষ দিশেহারা। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। কেবল প্রশাসনিক রদবদল দিয়ে মানুষের পেট ভরবে না।

​সংস্কার না কি স্রেফ রূপান্তর?

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। কিন্তু মূলত তারাই সংস্কারের নামে দেশটির সর্বনাশ করে রেখে গেছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত আমরা যা দেখছি, তা কি প্রকৃত সংস্কার? প্রকৃত সংস্কার মানে হলো এমন একটি সিস্টেম তৈরি করা যেখানে ব্যক্তি নয়, নিয়ম কাজ করবে। কিন্তু এখন নিয়মের চেয়ে ব্যক্তির ইচ্ছাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার পুরনো পথেই হাঁটছে। এই রূপান্তর কি ৫ই আগস্টের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার? এটি এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

​বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ: আস্থার সংকট

সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে এখন আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, শাসনের ধরণ বদলায়নি। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত অযোগ্য ও দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে সরকার কি বার্তা দিতে চায়? বার্তাটি স্পষ্ট—ক্ষমতায় যারা থাকে, তারা সবসময় নিজেদের স্বার্থই দেখে। এটি যদি সত্য হয়, তবে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে। আস্থার এই সংকট কাটাতে হলে সরকারকে দ্রুত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেবল বক্তৃতায় বড় বড় কথা বললে হবে না, কাজে তার প্রমাণ দিতে হবে।

​আইনের শাসন ও মানবাধিকার

আইনের শাসন আজ প্রশ্নবিদ্ধ। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছে। বিচারকদের শোকজ করা বা ঢালাওভাবে মামলা দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অপরাধী যেই হোক, তার সুষ্ঠু বিচারের অধিকার আছে। কিন্তু আমরা দেখছি গণহারে মামলা ও গ্রেফতারের সংস্কৃতি। এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকার যদি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে তাদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। সংস্কারের প্রথম ধাপ হওয়া উচিত ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

​যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত নিয়োগে মেধাকে পাশ কাটিয়ে আত্মীয়তা ও রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে মেধাবী তরুণরা হতাশ হয়ে দেশ ছাড়ার চিন্তা করছে। যদি তরুণ প্রজন্মকে অবমূল্যায়ন করা হয়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সরকারকে বুঝতে হবে, তরুণরা আর পুরনো দিনের রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় স্বচ্ছতা ও সুযোগের সমতা। বাপের দোয়ায় নয়, নিজের যোগ্যতায় তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়।

​সরকারকে যা করতে হবে

এখনও সময় আছে সরকারের ভুল সংশোধনের। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত যেসব বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে। পরিবারতন্ত্রকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের পালস বুঝতে হবে। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সরকারের পতনের কারণ হতে পারে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কি কোনো ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে?

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ পর্যন্ত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। দেশ “বাপের দোয়ায়” চলবে না, দেশ চলবে আইনের শাসনে ও মানুষের অধিকারে। সরকার যদি মানুষের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং আত্মীয়তোষণ ও দলীয়করণ অব্যাহত রাখে, তবে তা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ সবসময়ই গর্জে ওঠে। তাই সরকারকে দ্রুত আত্মোপলব্ধি করতে হবে। বিসিবি থেকে বিচার বিভাগ সর্বত্র স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই হোক বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। আমরা একটি বৈষম্যহীন, সুবিচার নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের অপেক্ষায় রইলাম।

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *