
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেড় বছর ধরে ভবন বন্দী থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেমনটায় জানিয়েছেন। তাঁর দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি বিশ্লেষণ মূলক আলোচনা করবো আমরা এই প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তর সময়কাল ছিল অত্যন্ত নাটকীয় এবং অমীমাংসিত অনেক প্রশ্নে ঘেরা। সেই উত্তাল সময়ে সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে দেশের হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ দেড় বছর বঙ্গভবনের চার দেয়ালে কার্যত নিরবচ্ছিন্ন জীবন কাটানোর পর, সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল শেষে দেশে যখন নির্বাচিত সরকারের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর এই বক্তব্য কেবল একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং ইতিহাসের এক রুদ্ধদ্বার অধ্যায়ের উন্মোচন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: প্রাসাদবন্দি জীবনের দেড় বছর
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতাকে ‘প্রাসাদবন্দি’ অবস্থার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না, এমনকি তাকে নানাভাবে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যা অত্যন্ত অবমাননাকর। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, তাকে নিয়ে নানা চক্রান্ত হয়েছে এবং সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির জন্য বারবার ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে।
সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির অপচেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির দৃঢ়তা
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, অসাংবিধানিক উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে থাকা কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং গণ-অভ্যুত্থানের কতিপয় নেতা তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এমনকি সাবেক একজন প্রধান বিচারপতিকে তার স্থানে বসানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা দীর্ঘ সময় বৈঠকও করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন তার সিদ্ধান্তে অবিচল। তিনি বলেছিলেন, “আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে, তবুও আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।” তার এই আপসহীন অবস্থানই বাংলাদেশকে একটি বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট থেকে রক্ষা করেছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
অপটিক্যাল ফাইবার: আধুনিক বিশ্ব ও ডিজিটাল বিপ্লবের অদৃশ্য মেরুদণ্ড
বঙ্গভবন ঘেরাও ও বিভীষিকাময় সেই রাত
২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত রোমহর্ষক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সেই রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেটি ছিল তার জন্য এক বিভীষিকাময় সময়। বাইরে হাজার হাজার মানুষ, ভেতরে সেনাবাহিনী ও তিন স্তরের নিরাপত্তা। তিনি জানিয়েছেন, কিছু ভাড়াটিয়া নারী ও পুরুষকে দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে করে তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করা যায় এবং ব্ল্যাকমেইল করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত সাহসের সাথে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের বিচক্ষণ ভূমিকায় শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ইউনূস সরকারের সাথে দূরত্ব ও সংবিধান লঙ্ঘন
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সম্পর্ক কেমন ছিল, তা এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাথে সমন্বয় করেননি। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফর পরবর্তী প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ড. ইউনূস তার ১৫টি বিদেশ সফরের কোনোটি নিয়েই রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও জানান, তাকে বিদেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেই সফরগুলো বাতিল করা হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদার পরিপন্থী।
’প্রতিবন্ধী’ রাষ্ট্রপতির অসহায়ত্ব
একজন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা যে কেবল আনুষ্ঠানিক, তা জানা থাকলেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে যেভাবে ‘অকার্যকর’ করে রাখা হয়েছিল, তা অকল্পনীয়। তিনি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের প্রেস উইং তাকে জনগণের কাছে উপস্থাপিত হতে দেয়নি। এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও রাষ্ট্রপতির বাণী ছাড়াই ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারিকে ফোন দিলেও তারা পাত্তা দেননি। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের লোকজনকে প্রত্যাহার করে তাকে প্রশাসনিকভাবে একা করে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর ভাষায়, তাকে কার্যত ‘প্রতিবন্ধী’ করে রাখা হয়েছিল।
দুঃসময়ে পাশে ছিল বিএনপি ও তিন বাহিনী
রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু নেই—এই প্রবাদের সত্যতা আবারও প্রমাণিত হলো। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন যে, তার কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে ছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিকতা এবং দলের পক্ষ থেকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি তাকে সাহস জুগিয়েছিল। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানদের সমর্থন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর অবস্থানের ভিত্তি শক্ত করেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি যখন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে তারা অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায় না, তখনই মূলত ষড়যন্ত্রকারীরা রণে ভঙ্গ দেয়।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
অধ্যাদেশ জারি ও আইনি বিতর্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রেকর্ড পরিমাণ (১৩২টি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, এর অনেকগুলোই জরুরি ছিল না এবং আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তাকে কেবল স্বাক্ষরকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। এমনকি নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ বা এনডিএ সম্পর্কেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
ভিডিও বিশ্লেষণের প্রতিফলন (নিউজ অ্যানালাইসিস বাই কাজী রুনা)
ইউটিউবে প্রকাশিত কাজী রুনার বিশ্লেষণমূলক ভিডিওটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানেও রাষ্ট্রপতির এই বন্দি জীবনের করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ না করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সাক্ষাৎকারটি সেই বিশ্লেষণের সত্যতা প্রমাণ করে। ভিডিওতে যেভাবে বলা হয়েছে যে তাকে বঙ্গভবনের চার দেয়ালে বন্দি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির নিজ মুখে বলা ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দটি সেই দাবিরই প্রতিধ্বনি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বারবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন।
আর্টিকেলের মূল বিশ্লেষণ: কেন এই সাক্ষাৎকার এখন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন এতদিন নীরব ছিলেন এবং এখন কেন মুখ খুললেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ওপর থেকে সেই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সরে গেছে। তিনি এখন মুক্তভাবে সত্য প্রকাশের পরিবেশ পেয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে, একটি অস্থির সময়ে তিনি কীভাবে ধৈর্য ও সাহসের সাথে সংবিধান রক্ষা করেছেন। এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কারের পথে বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও রাষ্ট্রপতির মূল্যায়ন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিপক্কতার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে অসাংবিধানিক কোনো পথে না গিয়ে সাংবিধানিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে বিএনপির অনড় অবস্থান তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বড় শিক্ষা। যখন একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রপ্রধানকে উপড়ে ফেলতে চায়, তখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনই পারে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মনে করেন, এই ঐক্যই বাংলাদেশের আগামীর পাথেয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির এক লুকানো সত্যের বহিঃপ্রকাশ। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি যে লড়াই করেছেন, তা কেবল নিজের পদ রক্ষার জন্য ছিল না, বরং তা ছিল সংবিধান ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার লড়াই। দেড় বছরের ‘বন্দিদশা’ আর ‘ষড়যন্ত্রের ঝড়’ মোকাবিলা করে তিনি আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার এই দীর্ঘ বয়ান দেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে বারবার সাংবিধানিক সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিশেষে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর বক্তব্য নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্যও একটি বার্তা—সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে অসদাচরণ ও তাঁর সাক্ষাৎকারের বিশ্লেষণ মূলক এই আর্টিকেলটি পড়ে, আপনার মতামত বা প্রতিক্রিয়া কী তা কমেন্টে লিখে জানান। আপনার মতামত ও প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata