
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার। একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাস সময় খুব বেশি না হলেও, নতুন সরকারের যাত্রাপথ কোন দিকে যাচ্ছে তার ইঙ্গিত বোঝার জন্য এটি যথেষ্ট। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সফলতার হাতছানির চেয়ে চ্যালেঞ্জের পাহাড় অনেক বেশি দীর্ঘ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের বলয় নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা উপেক্ষা করার মতো নয়। ক্ষমতার অলিন্দে ঘাপটি মেরে থাকা স্বার্থান্বেষী মহল এবং ‘গুপ্ত জামাত’ সদস্যদের উপস্থিতি সরকারের মৌলিক লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমান সরকারের এই এক মাসের পথচলা বিশ্লেষণ করলে যেমন কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ চোখে পড়ে, তেমনি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে যাওয়া পুরনো প্রেতাত্মাদের আস্ফালনও বিচলিত করে সাধারণ মানুষকে। তাই এখনই সময় সাবধান হওয়ার, অন্যথায় এই অর্জন ম্লান হতে সময় লাগবে না।
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার: অর্জনের খেরোখাতা
গত ৩০ দিনে সরকারের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পারিবারিক কার্ড বিতরণ, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা এবং কৃষি খাতে খাল খনন কর্মসূচির মতো জনবান্ধব কাজগুলো দ্রুত শুরু হয়েছে। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে যে তৎপরতা দেখিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রাথমিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বিশ্লেষকরা। তবে এই অর্জনের আড়ালে যে বড় ধরনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদিচ্ছা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটাতে এখনো অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে ‘গুপ্ত জামাত’: একটি গভীর শঙ্কা
ভিডিও বিশ্লেষণে উঠে আসা সবচাইতে ভয়ংকর তথ্যটি হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ‘গুপ্ত জামাত’ ও দুর্নীতিবাজদের উপস্থিতি। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যখন দেশকে একটি নতুন ধারায় নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন একদল সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তা ও পরামর্শক ভুল তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক এম এ আজিজের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে শুরু করে গুলশান ও তেজগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে এমন কিছু মানুষ ঢুকে পড়েছে যাদের রাজনৈতিক আদর্শ বর্তমান সরকারের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। এই ‘গুপ্ত জামাত’ শব্দবন্ধটি এখানে কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে বোঝায় না, বরং এটি একটি আদর্শিক অন্তর্ঘাতকে নির্দেশ করে। যারা ভেতরে থেকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৎপর, তাদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
হরমুজ প্রণালি ও উত্তাল পারস্য উপসাগর: ইরানের আধিপত্য কমাতে ব্রিটেনের ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা
প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি
গত এক মাসে দেখা গেছে যে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ—সবখানেই একই চিত্র। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি কেবল ‘নিজের লোক’ দিয়ে প্রশাসন সাজাতে চায়, তবে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ। একজন ব্যবসায়ীকে যখন নীতি-নির্ধারণী শীর্ষ পদে বসানো হয়, তখন স্বার্থের সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের বলয়টি সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার: চ্যালেঞ্জ যখন অন্তহীন
রাজনৈতিকভাবে বর্তমান সরকারকে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, অন্যদিকে রাজপথে বিরোধী শক্তির সক্রিয়তা। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যখন জাতীয় ঐক্য গড়ার কথা বলছে, তখন জামাত বা এনসিপি-র মতো দলগুলো রাজপথ উত্তপ্ত করার সুযোগ খুঁজছে। ভিডিওর আলোচনা অনুযায়ী, এই দলগুলো বর্তমানে এগ্রেসিভ বা আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে তারা যদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই সংকট নিরসনে সরকারকে অনেক বেশি বিচক্ষণ ও কৌশলী হতে হবে। কেবল শক্ত হাতে দমন নয়, বরং সংলাপ ও সমঝোতার পথও খোলা রাখা জরুরি।
ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো জনসভায় গিয়ে ভুল তথ্য বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেন, তখন বোঝা যায় তার রিসার্চ সেল বা পরামর্শক দল ঠিকমতো কাজ করছে না। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো এক জায়গায় ইপিজেড না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তা ঘোষণা করানো হয়েছে। এই ধরনের মিসগাইডিং বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি তার তথ্য সরবরাহকারী মাধ্যমগুলোকে স্বচ্ছ করতে না পারে, তবে জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রশাসনে থাকা ‘গুপ্ত জামাত’ ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট চায় না সরকার সফল হোক, কারণ সরকারের সাফল্য মানেই তাদের অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য তদন্ত: বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কি কোনো ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে?
সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় ও জনমত
দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সম্পাদকীয় ও নিবন্ধগুলোতেও একই ধরনের সাবধানবাণী উচ্চারিত হচ্ছে। অধিকাংশ কলামিস্ট মনে করেন, একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যে গতিতে সংস্কার কাজ শুরু করেছিল, তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ধীর হয়ে পড়ছে। সংবাদপত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ এখনো চাঁদাবাজি ও স্থানীয় পর্যায়ের দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পায়নি। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ সরকারের ক্লিন ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সম্পাদকীয়গুলোতে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যে, এই ধরনের ছোট ছোট বিচ্যুতি বড় জনবিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার: সাবধানতার এখনই সময়
কেন আমরা বলছি সাবধানতার এখনই সময়? কারণ রাজনীতিতে সুবাতাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না যদি না তার ভিত্তি শক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে থাকা বলয়টি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তবে কোনো ভালো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার এখন যে জনসমর্থন ভোগ করছে, তা ধরে রাখতে হলে কঠোর শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। নিজস্ব দলের ভেতরে থাকা অনুপ্রবেশকারী এবং প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা পুরনো ব্যবস্থার দোসরদের ছেঁটে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে যাতে তাকে ঘিরে কোনো অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হতে না পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে গত এক মাসের অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকট ও বিনিয়োগের স্থবিরতা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গত এক মাসে তেমন কোনো জাদুকরী পরিবর্তন আসেনি। বিনিয়োগকারীরা এখনো ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিডার (BIDA) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো স্থবির হয়ে আছে। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়, তবে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর ও রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা স্বস্তি দিচ্ছে, তা বিচার করার সময় এসেছে। অর্থনীতিকে সচল করতে হলে রাজনীতির বাইরে গিয়ে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বিশাল লিটমাস টেস্ট।
বিচারাঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভারসাম্য
বিচারাঙ্গনে মামলার জট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার হিড়িক এখনো কমেনি। অনেক নিরপরাধ মানুষ এখনো জেল খাটছে, আবার অনেক অপরাধী জামিনে বেরিয়ে আসছে। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার একটি সুষম বিচার ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ধীর। জুলাই বিপ্লবের কর্মীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দেওয়া বা ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা বিচারহীনতার নামান্তর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে কাজ করতে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও র্যাবকে যদি আবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার: দল ও রাষ্ট্রের দূরত্ব
একটি সরকারকে সফল হতে হলে দল ও রাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রেখা থাকতে হয়। কিন্তু গত এক মাসে দেখা গেছে, দলীয় কার্যালয় আর সচিবালয় অনেক ক্ষেত্রে একাকার হয়ে যাচ্ছে। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের স্বার্থ রক্ষা করে, তবে তা জাতীয় সরকারের চরিত্র হারাবে। প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে তিনি সারা দেশের মানুষের নেতা, কেবল একটি দলের নন। তার চারপাশের তথাকথিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেক সময় ব্যক্তিগত লাভের জন্য দলীয় সংকীর্ণতাকে বড় করে দেখায়। এই বলয় ভেঙে বের হয়ে আসাই এখন সরকারের প্রধান কাজ।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
অর্থনৈতিক ক্ষতির ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ: বিশ্বকাপে না গেলে লাল-সবুজের কী কী অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে?
মিডিয়া ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের। ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৫০-এর বেশি সাংবাদিক জেল খাটছেন বা মামলার মুখে আছেন। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি মুক্ত গণমাধ্যমের পথ রুদ্ধ করে, তবে দুর্নীতিবাজরা আরও উৎসাহিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের ‘গুপ্ত জামাত’ সিন্ডিকেট চায় না সত্য প্রকাশিত হোক। তারা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে চায়। সরকারকে মনে রাখতে হবে, মিডিয়া হলো প্রশাসনের আয়না। আয়না ভেঙে ফেললে নিজের ভুলগুলো দেখার সুযোগ থাকবে না।
একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার: জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন
জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ এবং ন্যায়বিচার। সাধারণ মানুষ তাদের প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এনেছে, তার অমর্যাদা করার অধিকার কারও নেই। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারে, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত সরাসরি জনগণের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ সূত্রের মাধ্যমে মাঠের খবর নেওয়া। চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে থাকলে প্রকৃত সত্য আড়ালেই থেকে যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার এখন এক বন্ধুর পথ পাড়ি দিচ্ছে। এই এক মাসের সাফল্য যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি এর ব্যর্থতাগুলোও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ‘গুপ্ত জামাত’ সদস্যদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শনই পারে এই সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী সফলতা দিতে।
মনে রাখতে হবে, পরিবর্তনের সুযোগ বারবার আসে না। গত এক মাসের অভিজ্ঞতায় যে ভুলগুলো চোখে পড়েছে, তা সংশোধন করার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। সাবধানতার সাথে পা না বাড়ালে ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে পারে সব অর্জন। বাংলাদেশের মানুষ একটি সুন্দর ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র চায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকারের ওপর ন্যস্ত। একমাস পেরিয়ে বর্তমান সরকার যেন তার পথ না হারায়, সেটাই আজ কোটি মানুষের প্রার্থনা।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata