সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ (একটি থ্রিলার ফিকশন)

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

সিনিয়র ডার্লিং

থ্রিলার ফিকশন

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

নওরোজ বিপুল

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ স্লীভলেস ব্লাউজ পরিহিত বুকের উপর শাড়ির এক ফর্দার আবরণ- ফলে, আকর্ষণীয়ভাবে ফুলে আছে আয়াতির বক্ষ প্রদেশ। বুকের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত প্রশস্ত বক্ষ প্রদেশ ওর। আকর্ষণীয় আর স্বাভাবিকভাবেই একজন পুরুষের জন্য লোভনীয়। ওর পরনের শাড়িটার কাপড়ও বেশ সফট আর সিল্কি। ফলে, শাড়িটা ওর শরীরের সাথে একেবারে যেন লেপ্টে আছে। তাতে আকর্ষণীয়ভাবে ফুটে উঠেছে আয়াতির শরীরের প্রতিটি বাঁক।

দীর্ঘাঙ্গী রমণী আয়াতি। পুরুষকে আকৃষ্ট করার মতো আকর্ষণীয় শারীরিক গঠনের অধিকারিণী সুন্দরী। ওর আলাদা করে খুব বেশি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয়। কমলার কোয়ার মতো ঠোঁটে সে লিপইষ্টিকের গাঢ় প্রলেপ দিতে পছন্দ করে। নিজের পছন্দ মতোই নিজেকে আকৃষ্ট করে সে এসে, কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশ করলো। সবেমাত্র সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। সে দেরি করে ফেলেছে কি না তা বোঝার চেষ্টা করলো। অতিথি সমাগম অনেক হয়েছে বটে, কিন্তু সে নিজে দেরি করে ফেলেছে বলে মনে করলো না। মুখমণ্ডলে হাসিহাসি ভাব ফুটিয়ে, এগিয়ে গেলো সামনে। পরিচিত আর আত্মীয়স্বজনদের কাছে গিয়ে গিয়ে নিজেই কথা বলল। একে অপরের কুশলাদি বিনিময় করলো। এক পর্যায়ে ওকে কেউ বলল, ‘ওয়াউ! হোয়াট আ প্লিসেন্ট সারপ্রাইজ! আন্টি, আপনি এখানে?’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

আন্টি সম্বোধন শুনে ভ্রু-কুঁচকালো আয়াতি। কে ওকে আন্টি সম্বোধন করলো, তাকে দেখতে বাম দিকে তাকালো সে। ওর কাছাকাছিই হাসি-হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাইশ তেইশ বছর বয়সী, লম্বাচওড়া সুদর্শন এক যুবক- নাদিফ। আয়াতি আর নাদিভ একই সোসাইটির আলাদা আলাদা এ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করে। ওদের মধ্যে হাই হ্যালো ধরনের পরিচিত আছে। সখ্যতা তেমন একটা নাই বললেই চলে। আন্টি সম্বোধন করায় প্রথমেই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে গেলো না আয়াতি। সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ নাদিফের প্রশ্নের জবাবে বলল, ‘আমার কিছুটা দূর সম্পর্কের কাজিনের বড় ভাসুরের ছোট মেয়ের বিয়েতে এসেছি। কিন্তু তুমি এখানে কী করো?’

‘বর আমার মামাতো ভাইয়ের বন্ধুর ছোট ভাই, আমি মামাতো ভাইয়ের সাথে এসেছি।’ বলল নাদিফ, ‘কী কাকতালীয় ব্যাপার, তাই না আন্টি?’

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ বারবার আন্টি সম্বোধন শুনতে শুনতে ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠছে আয়াতি। কিন্তু প্রতিক্রিয়া সে চেহারায় প্রকাশ হতে দিচ্ছে না। চেহারায় হাস্যজ্বল ভাবটা ধরে রেখেই সে বলল, ‘সত্যিই খুবই কাকতালীয়!’ মাথা একবার ঘুরিয়ে সে বলল, ‘চারপাশে তো দেখছি অসংখ্য ডানাকাটা পরী উড়ে বেড়াচ্ছে, দুই একটা গার্লফ্রেন্ড হয়ে গেছে নাকি ইতিমধ্যে?’

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রোমান্টিক প্রেমের গল্পটি পড়ুন:

সম্পর্কের গন্তব্য: পর্ব-১ (রোমান্টিক প্রেমের গল্পে)

আয়াতির কথার রেশ ধরে এদিক ওদিক, সামনে-পেছনে একবার তাকালো নাদিফ। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে, আয়াতির আকর্ষণীয় ভাবে ফুলে থাকা বুকের দিকেও একবার তাকালো। ব্যাপারটা আয়াতিও লক্ষ্য করলো। একেবারেই গুরুত্ব দিলো না। এই বয়সী একটা ছেলে যদি নারীর বুকের দিকে একটু আধটু না থাকায়, তাহলে তাদেরকে ছেলে হিসেবে মানায় না। ওর প্রশ্ন শুনে হাসলো নাদিভ। বলল, ‘কী যে বলেন আন্টি, এতো তাড়াতাড়ি গার্লফ্রেন্ড হবে কী করে? এখনো তো তেমনভাবে কথা বলারই সুযোগ হয়নি কারো সাথে।’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

‘আহ্ হা রে! সুযোগ হয়নি যখন তখন সুযোগ আর তৈরি করার দরকারও নাই।’ বলল আয়াতি, ‘তুমি কি আইসক্রিম খেতে পছন্দ করো?’

আইসক্রিম নাদিফ তেমন একটা পছন্দ করে না। সে মনে করে, আইসক্রিম বাচ্চাকাচ্চা আর মেয়েদের খাবার। তা সে অবশ্য আয়াতিকে বলতে গেলো না। প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে সে বলল, ‘বুঝতে পারছি আপনি আইসক্রিম খেতে খুব পছন্দ করেন। কিন্তু এই বিয়ের অনুষ্ঠানে আইসক্রিমের ব্যবস্থা করা আছে বলে তো মনে হয় না।’

‘আমি আসার সময় রাস্তার ওপাশে আইসক্রিমের একটা ভ্যান দেখে এসেছি।’ বলল আয়াতি, ‘চলো, তোমাকে একটা আইসক্রিম খাওয়ায়ে নিয়ে আসি।’

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ কিছু না বলে, আয়াতির সাথে কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হলো নাদিফ। পাশাপাশি হেটে আর কথা বলতে বলতে ওরা রাস্তা পার হয়ে আসলো। পারফিউমের সাথে আয়াতির একটা মেয়েলী গন্ধ এসে, নাদিফকে একেবারে যেন বিভোর করে তুলতে চাইলো। আয়াতি প্রথমত সিনিয়র, তার উপর প্রতিবেশী হওয়ায় নিজেকে সংযত রাখলো নাদিফ। দুজন দুইটা আইসক্রিম নিয়ে খেতে শুরু করলো। নাদিভ বলল, ‘অসাধারণ গর্জিয়াছ লাগছে আন্টি আপনাকে!’

‘নো নো নো, নজর দিয়ো না!’ স্বশব্দে হেসে বলল আয়াতি, ‘নজর দেয়ার জন্য আমার ঘরে মানুষ আছে!’

সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১ আয়াতির কথা শুনে নাদিফের মনে হলো, কেউ যেন ওর গলা চেপে ধরেছে। সে দ্রুততার সাথে বললে, ‘না না আন্টি, আপনি যা ভাবছেন তা মীন করে…’

নাদিফ কথা শেষ করতে পারলো না। ওকে বাধা দিয়ে আয়াতি ধমক দিলো। বলল, ‘একটা থাপ্পড় দিবো, বজ্জাত ছেলে একটা!’

আয়াতির ধমকে নাদিফ একেবারে যেন সিঁটিয়ে গেলো। বলল, ‘কী হলো আন্টি, হঠাৎ এমন ক্ষেপে উঠলেন যে!’

‘বারবার এমন আন্টি আন্টি বলছো কেন?’ বলল আয়াতি, ‘কোন এ্যাঙ্গেল থেকে আমাকে আন্টিদের মতো দেখাচ্ছে?’

নাদিফের তুলনায় বয়সে আয়াতি আন্টিদের তালিকাতেই পড়ে। কিন্তু কোনো নারীই মূলত আন্টি সম্বোধন শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না- তা মাথায় রাখেনি নাদিফ। হেসে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করলো সে। বলল, ‘আসলে আমরা তো একে অপরের প্রতিবেশী, আর আপনি আমার সিনিয়র- সেই জন্যই আন্টি বলেছি। কিন্তু আন্টি না বললে কী বলবো- সিনিয়র ডার্লিং?’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

এবার আয়াতি চমকিত হয়ে গেলো বলে মনে হলো। অল্পবয়সী হওয়ায় এই ছেলেকে সে যতটা বোকাসোকা ভেবেছিল, ততটা বোকাসোকা নয় সে। আন্টি থেকে সে একেবারে সিনিয়র ডার্লিং সম্বোধনে চলে এসেছে। না জানি আরও কী কী বলে বসবে- এই ছেলের সাথে আর বেশিক্ষণ একা একা থাকা চলবে না। আবাসিক এলাকা হওয়ায় রাস্তায় যানবাহন, লোকজন তেমন একটা নাই। মাঝেমাঝে দুই একজন পথচারী, দুই একটা যানবাহন চলাচল করছে। সুতরাং রাস্তা নির্জনই বলা চলে। নাদিফ অল্পবয়সী একটা ছেলে। নির্জনতা পেয়ে সে যদি বেফাঁস কিছু বলে ফেলে, কিংবা হুট করে কিছু করে বসে তাহলে বিষয়টা অপ্রীতিকর হয়ে যাবে। সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

নাদিফকে মূলত একটা ধমক দেয়ার জন্য কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের করে এনেছিল আয়াতি। তা দেয়া হয়েছে। বাহিরে আর বেশি সময় না কাটিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে ফিরলো ওরা। রাত সাড়ে এগারোটার পর- কোনো একভাবে নাদিফকে ফাঁকি দিলো আয়াতি। একসাথে ফেরার কথা বলে রেখেছিল নাদিফ। ওকে সাথে না নিয়ে একা একা ফিরলো আয়াতি। ওর আট বছর বয়সী ছেলে, আর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ততক্ষণে ঘুমিয়ে গেছে। ওদেরকে সাথে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়নি আয়াতি। ফিরে এসে সে ফ্রেশ হয়ে নিলো। শুয়ে পড়ে আসিফের ফোনে কল করলো। সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

আয়াতির স্বামী আসিফ। সে একজন বিজসনেসম্যান। বিজনেসের প্রয়োজনে সে গত কয়েক বছর ধরে ওকে বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়াতে হয়। কখনো আবার দেশের বাহিরেও যেতে হয়। ফলে, কখনো সপ্তাহের পর সপ্তাহ, আবার কখনো মাসের পর মাস বউ, ছেলে-মেয়ের সাথে আসিফের সাক্ষাৎ হয়ই না। দেশের বাহিরে গেলে তো সপ্তাহের হিসাব মাসে চলে যায়। বর্তমানে সে বিজনেসের কাজে চট্রগ্রামে অবস্থান করছে। রাত বারোটা পেরিয়ে গেছে- এখনো ঘুমায়নি সে। বউয়ের কল রিসিভ করলো। বলল, ‘বলো।’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

জবাবে এই প্রান্ত থেকে আয়াতি জানতে চাইলো, ‘আসবে কবে?’

‘ফোন করেই তোমার এই আসবে কবে কথাটা শুনতে শুনতে, কথাটা আমার মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে।’ বলল আসিফ, ‘একটু রোমান্টিক কিছু বলে কথা শুরু করতে পারো না?’

‘রোমান্টিকতার জন্যই তো আমার তোমাকে দরকার, সেই জন্যই তো বলি।’ বলল আয়াতি, ‘এই মুহুর্তে আমি তোমার প্রয়োজনীয়তা কতটা তীব্রভাবে অনুভব করছি তা কি তুমি বুঝতে পারছো?’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

বুঝতে পারছে আসিফ। এই মুহুর্তে ওকে আয়াতির কেন প্রয়োজন তা না বোঝার মতো পুরুষ নয় সে। আয়াতির এই মুহুর্তের মাইন্ড সেটআপ সে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিতে চাইলো। বলল, ‘আজকে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কেমন এনজয় করলে তা বললে না তো!’

‘অসাধারণ এনজয় করেছি। একটা মজার কথা শুনবে?’

‘অবশ্যই শুনবো। বলো, কী মজার কথা?’

‘আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে যতক্ষণ ছিলাম, ততক্ষণই ছেলে বুড়ো সবাই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল তোমার বউয়ের দিকে!’ সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

কথা শেষ করে স্বশব্দে হেসে উঠলো আয়াতি। ওর কথা, আর হাসি শুনে আসিফ শুনে আসিফ মোটেও রাগান্বিত হলো না। সে নিজে বউ, আর ছেলে-মেয়েকে তেমন একটা সময় দিতে পারে না। সুতরাং ওর অনুপস্থিতিতে আয়াতিকে নিজের মতো করে সময় কাটাতে দিতে হবে। কন্ট্রোল করতে গেলেই হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। সে আয়াতির কথার ধারাবাহিকতায় বলল, ‘তাকাবেই তো! আমার বউ তো আর যেনতেন বউ না।’

‘যেনতেন না হলে কী তোমার বউ?’

‘আমার বউ একটা হটেস্ট ওয়াইন!’

‘এই হটেস্ট ওয়াইনকে একা একা ফেলে রেখে, শুধু এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াও।’ বলল আয়াতি, ‘সেই ফাঁকে আবারও অন্য কেউ এসে ওয়াইনের বোতলে চুমুক দিয়ে যাবে, কী করবে তখন?’

এই আশঙ্কায় করেছিল আসিফ। সে বলল, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আবার কারো উপর নজর পড়েছে তোমার তাই না?’

এবার আবার স্বশব্দে হেসে উঠলো আয়াতি। বলল, ‘না না, তেমনভাবে কারো উপরে অবশ্য নজর পড়েনি। কিন্তু তুমি নজরের মধ্যে না থাকলে, আমার নজর যদি অন্য কোথাও পড়ে তাহলে আমায় তুমি দোষারোপ করতে পারবে না।’

‘নজরের বাইরে থাকি তোমাকে আর ছেলে-মেয়ে দুটোকে ভালো রাখতে।’ বলল আসিফ, ‘সেই কথাও তোমার মাথায় রাখা উচিৎ।’

‘মাথায় রাখিই তো! আমার কাছ থেকে তোমার প্রয়োজন ছিল পরবর্তী প্রজন্ম। বিবাহিত জীবনের প্রথম দিকেই তা দিয়েছি।’ বলল আয়াতি, ‘আরও যদি চাও, দেবো। সেইজন্য তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে। আর যদি না চাও তাহলে দূরে দূরেই থাকো। তোমার দূরত্বের কারণে, তোমার হটেস্ট ওয়াইনের বোতলে অন্য কেউ এসে চুমুক দিয়ে গেলে, আমি কোনো দোষ নেবো না।’

কথা আর বেশি বাড়ালো না আসিফ। সে কথা যতো বাড়াবে আয়াতি ততই পাল্টা যুক্তি নিয়ে আসবে। ওর অনুপস্থিতিতে আয়াতি যখন বিছানায় ওকে পেতে ছটফট করছে, আসিফ তখন বাহুডোরে এক নন-প্রফেশনাল মেয়েকে নিয়ে ওরই সাথে কথা বলছে। আয়াতিকে নিয়ে ইতিপূর্বেও ভয়ানক ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল আসিফকে। সে নিজের ছেলে-মেয়ে দুটোকে যথেষ্ট সময় দিতে পারে না। সার্বক্ষণিক সময় দেয়াটাও তো কঠিন। ছেলে-মেয়ে দুটোর কথা চিন্তা করেই আসিফের হাত-পা বাধা। আয়াতিও বারবার সেই সুযোগটায় নেয়, নেবে। আসিফকেও বারবার ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে। সিনিয়র ডার্লিং: পর্ব-১

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *