সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতি: ক্ষমতার আড়ালে অর্থপাচার ও অনিয়মের পাহাড় সমান অভিযোগ

উপদেষ্টাদের দুর্নীতি
সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতি: ক্ষমতার আড়ালে অর্থপাচার ও অনিয়মের পাহাড় সমান অভিযোগ | ব্যাঙেরছাতা

উপদেষ্টাদের দুর্নীতি – এমন একটি খবর শুনে নিশ্চয় আপনি খুবই আশ্চর্যান্বিত হয়ে যাচ্ছেন? বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে তথাকথিত সেই গণঅভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে, ইউনুসের নেতৃত্বাধীন একটি উপদেষ্টা সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নেয়। দেশের মানুষ অনেক আশা ও আকাঙ্খা নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। সবাই ধরেই নিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার পদে ইউনুস আর অন্যান্য উপদেষ্টারা নিশ্চয় আকাশের উপর থেকে প্রেরিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ঘটনার চিত্রপট সম্পূর্ণ পালটে গেছে। আকাশের উপর থেকে প্রেরিত হয়ে আসা সেই পুরুষেরাও জড়িয়ে পড়েছিল নানান দুর্নীতিতে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আর্টিকেল বিশ্লেষণ করে, এই আর্টিকেলে সেইসব প্রেরিত পুরুষদের দুর্নীতির আদ্যোপান্ত আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উপদেষ্টা পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নীতিনির্ধারণে তারা বড় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত শত অভিযোগ জমা পড়েছে। মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছে। রাষ্ট্রের উচ্চপদে থেকে কীভাবে তারা অনিয়ম করেছেন তা অবাক করার মতো। আন্তর্জাতিক মহলেও এই দুর্নীতির খবরগুলো গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হচ্ছে। আজ আমরা এই আর্টিকেলে উপদেষ্টাদের দুর্নীতির আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করব।

​ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সূত্রপাত

একনজরে আর্টিকেলটির সারাংশ দেখুন: hide

উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই অনেকের স্বভাব বদলে যায়। তারা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করতে শুরু করেন। বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট থেকে কমিশন গ্রহণ ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারি নথিপত্রে জালিয়াতি করে তারা বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি শুধু অর্থ আত্মসাতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা নিয়োগ বাণিজ্য এবং টেন্ডারবাজিতেও জড়িত ছিলেন। নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। যার ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন। বিরোধীদের দমনে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কেউ পায়নি।

​আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা ও অর্থপাচার

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের পেছনেও উপদেষ্টাদের হাত রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে তারা সহায়তা করেছেন। বিনিময়ে তারা বড় অংকের কমিশন পকেটে ভরেছেন। মূলত উপদেষ্টাদের দুর্নীতি ব্যাংকিং খাতকে দেউলিয়া হওয়ার পথে নিয়ে গেছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খুলে তারা বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। দুবাই, কানাডা ও আমেরিকায় তারা বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাতেও অনেকের পরোক্ষ যোগসূত্র পাওয়া গেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে তারা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন। সাধারণ আমানতকারীরা এখন তাদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। এই আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলো এখন তদন্ত সংস্থার নজরে এসেছে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর ও বঙ্গভবনের নেপথ্য গল্প: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের বিশ্লেষণ

​টেন্ডার জালিয়াতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের লুটপাট

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব প্রকল্পের বাজেট সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। অতিরিক্ত বাজেটের বড় অংশই গিয়েছে উপদেষ্টাদের পকেটে। টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে তারা পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়েছেন। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি প্রকল্পের গুণগত মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার ফলে অনেক স্থাপনা ভেঙে পড়ছে। রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের ব্যয় প্রতিবেশী দেশের চেয়ে তিনগুণ বেশি দেখানো হয়েছে। এই বাড়তি টাকাগুলো সরাসরি প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। উন্নয়নের নামে জনগণের ট্যাক্সের টাকা তারা হরিলুট করেছেন।

​নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞ

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে টাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টাদের আর্শীবাদ ছাড়া বড় কোনো পদে নিয়োগ পাওয়া অসম্ভব ছিল। একেকটি পদের জন্য তারা কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি দক্ষ জনবল তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অযোগ্য ব্যক্তিদের বড় বড় পদে বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত তাদের প্রভাব ছিল। দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে তারা অপরাধের অভয়ারণ্য তৈরি করেছিলেন। এর ফলে মেধাবী তরুণরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য এই দুর্নীতিবাজরাই দায়ী।

​উপদেষ্টাদের দুর্নীতি: বিদেশে সম্পদের পাহাড় ও বেগম পাড়া

কানাডার ‘বেগম পাড়া’ বা দুবাইয়ের ‘পাম জুমেইরাহ’ এখন বহুল আলোচিত নাম। তদন্তে দেখা গেছে, সাবেক অনেক উপদেষ্টার সেখানে রাজকীয় ভিলা রয়েছে। দেশের টাকা পাচার করেই তারা এই সম্পদ গড়েছেন। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও নেতিবাচকভাবে চিত্রিত হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব পাচারকৃত অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। অথচ দেশের মানুষ মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছে। এই বৈষম্য সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

​বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মহাদুর্নীতি

দেশের বিদ্যুৎ খাত ছিল দুর্নীতির অন্যতম স্বর্গরাজ্য। বিশেষ বিধান আইন ব্যবহার করে বিনা টেন্ডারে কাজ দেওয়া হয়েছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এই খাতে উপদেষ্টাদের দুর্নীতি ছিল সবচেয়ে পরিকল্পিত। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে উৎপাদন না করেই বসিয়ে বসিয়ে টাকা দেওয়া হয়েছে। যার বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। বিদ্যুতের দাম বারবার বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটা হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ছিলেন প্রভাবশালী উপদেষ্টারা। তাদের অন্যায্য সিদ্ধান্তের কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

অপটিক্যাল ফাইবার: আধুনিক বিশ্ব ও ডিজিটাল বিপ্লবের অদৃশ্য মেরুদণ্ড

​শেয়ার বাজারে নজিরবিহীন কারসাজি

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চোখের জল ঝরিয়ে শেয়ার বাজার থেকে টাকা লুট হয়েছে। কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখানো হতো। যখন দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেত, তখন উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠরা শেয়ার বিক্রি করে দিতেন। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অপরাধীদের নাম কখনো সামনে আসেনি। কারণ প্রভাবশালী উপদেষ্টারা পর্দার আড়াল থেকে তাদের রক্ষা করতেন। শেয়ার বাজারের এই লুটপাট বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

​গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ও ভয়ংকর সংস্কৃতি

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় অনেক সাংবাদিককে হয়রানি করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইন ব্যবহার করে মুখ বন্ধ রাখা হতো। সাবেক উপদেষ্টারা গণমাধ্যম মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। এর ফলে উপদেষ্টাদের দুর্নীতি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যেত। যারা সাহসী সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছেন, তাদের জেল খাটতে হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করে তারা অপরাধ চালিয়ে গেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এক ধরণের ভয়ের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল সারা দেশে।

তবে বর্তমান সময়ে অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হতে শুরু করেছে। মানুষ এখন সত্য জানতে পারছে।

​আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া

বিবিসি, আল জাজিরা এবং সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। সেখানে সরাসরি সাবেক উপদেষ্টাদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এসব উপদেষ্টাদের সম্পদ জব্দের দাবি জানিয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পরিবেশ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। দুর্নীতির কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি না হলে এই দুর্নীতিবাজদের বিচার করা কঠিন হতে পারে। বিশ্ব বিবেক এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

​তদন্ত সংস্থার তৎপরতা ও আইনি প্রক্রিয়া

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাবেক উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি প্রমাণে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন অনেক বেশি সক্রিয়। তারা বিদেশে চিঠি লিখে সম্পদের হিসাব চাচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পলাতক অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মানুষ আশা করছে, এবার হয়তো অপরাধীরা পার পাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

ড. খলিলুর রহমান: ইউনুসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী- এই টুইস্ট কি ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-এর অংশ?

​জনগণের প্রত্যাশা ও সামাজিক আন্দোলন

দেশের সাধারণ মানুষ এখন সোচ্চার হয়েছে। তারা শুধু গ্রেফতার নয়, পাচারকৃত টাকা ফেরত চায়। পাচারকৃত টাকা ফেরত এনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার দাবি উঠেছে। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি রুখতে নতুন করে আইন সংস্কারের দাবি জানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে। তরুণ সমাজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবখানে এখন এই আলোচনার ঝড়। মানুষ চায় না আর কোনো উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করুক। ভবিষ্যতে উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর স্ক্রিনিং প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

​শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির প্রভাব

উপদেষ্টাদের মদদে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতও ছাড় পায়নি। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় কয়েক গুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে। করোনা মহামারীর সময়ও তারা পিপিই ও মাস্ক নিয়ে দুর্নীতি করেছেন। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বই ছাপানোতে অনিয়ম ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় মেধা ও স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সিন্ডিকেট রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেত। এই অমানবিক দুর্নীতির বিচার হওয়া সময়ের দাবি।

​প্রশাসনের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার

প্রশাসনকে দলীয়মুক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত দিনে প্রশাসন ছিল উপদেষ্টাদের আজ্ঞাবহ। ফাইল আটকে রাখা এবং ঘুষ গ্রহণ ছিল সাধারণ বিষয়। এই উপদেষ্টাদের দুর্নীতি রোধে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। প্রতিটি স্তরে ডিজিটালাইজেশন করা প্রয়োজন। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে যেন বিচারের আওতায় আনা যায়। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। উপদেষ্টারা যেন এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

​উপদেষ্টাদের দুর্নীতি রোধে ভবিষ্যৎ করণীয়

আগামী দিনে উপদেষ্টা পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করতে হবে। তাদের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। উপদেষ্টাদের দুর্নীতি বন্ধে শক্তিশালী লোকপাল বা ন্যায়পাল নিয়োগ করা জরুরি। সংসদের কাছে তাদের কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে। তারা যেন সরকারের ভুল এবং অনিয়ম আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে। দেশের আইন ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন কেউ ছাড় না পায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। বিশেষ করে সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতি দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে সব অন্ধকার কেটে নতুন সূর্য উদিত হয়। বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান আমাদের আশাবাদী করে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া এখন জাতীয় দায়িত্ব। জনগণের অধিকার রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই থামানো যাবে না। একটি সুন্দর আগামী গড়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই।

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *