
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকতে পারতো। দীর্ঘ ১৬ বছরের জগদ্দল পাথর সরিয়ে শান্তির মহাদূত ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল সাধারণ মানুষ।
সেই সময় একদল তরুণ ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হন। তারা রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিচারের বাণী প্রচার করেছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে। আজ অদ্ভুত এক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে যে, সেই সময়ের তথাকথিত মবস্টাররা নিজেরায় এখন মবের শিকার হচ্ছেন।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে সংস্কৃতি তারা শুরু করেছিলেন, সেই আগুনেই এখন তাদের পুড়ে মরতে হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এক ভয়ংকর সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। যখন একদল যুবক বিপ্লবের নাম দিয়ে মব জাস্টিস শুরু করেছিল, তখন তারা ভাবেনি যে এই পথ তাদের নিজের জন্যও মরণফাঁদ হবে।
আজ যখন শাহবাগ থানার ভেতরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে তাদের ওপর হামলা হয়, তখন প্রমাণিত হয় যে মবস্টাররা নিজেরায় এখন অনিরাপদ। এই পরিস্থিতির কারণ বিশ্লেষণ করলে ক্ষমতা, দম্ভ এবং আইনের শাসনের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
বিপ্লবী বনাম মবস্টার: একটি বিশ্লেষণ
তথাকথিত জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগ ছিল অসীম। কিন্তু বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই তারা নিজেদের ‘বিপ্লবী’ তকমা দিয়ে মব কালচার শুরু করে। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চড়াও হয়েছে। ইউনুসের সময়ে এই গোষ্ঠীটি বিশেষ রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়েছিল। তাদের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে আইনের ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিল।
কিন্তু প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না। আজ যখন আমরা খবরের কাগজে দেখি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নেতারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন বোঝা যায় যে মবস্টাররা নিজেরায় এখন নিজেদের তৈরি করা সিস্টেমের কাছে জিম্মি।
তারা ভেবেছিল লাঠিই শেষ কথা। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল যে লাঠির জোর চিরস্থায়ী নয়। বিপ্লবের নামে যারা সন্ত্রাস করেছে, তাদের মানুষ বিপ্লবী হিসেবে নয়, মবস্টার হিসেবেই মনে রেখেছে। তাই আজ যখন তারা আক্রান্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো সহানুভূতি দেখা যায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মবস্টাররা নিজেরায় যখন বিচারের মুখোমুখি হয়, তখন সমাজ একে কর্মফল হিসেবে দেখছে।
তারেক রহমান ও ‘গুপ্ত’ বিতর্ক: নতুন মেরুকরণ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে এই শব্দটি ব্যবহার করে শিবির ও জুলাই বিপ্লবীদের একটি অংশকে ইঙ্গিত করেছেন। বিশেষ করে যারা অতীতে পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে ছিল, তাদেরই তিনি ‘গুপ্ত’ বলে সম্বোধন করেছেন। এই সম্বোধন রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে বিসিবির নতুন এ্যাডহক কমিটি: প্রকাশ্যে আসছে বৈধ-অবৈধতার চরম দ্বন্দ্ব
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ‘গুপ্ত’ তকমা পাওয়ার পর থেকেই ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শাহবাগ থানার সামনে ডাকসু নেতা মোসাদ্দেক এবং জুবায়েরের ওপর হামলার মূলে ছিল এই ‘গুপ্ত’ বিতর্ক। ছাত্রদলের অভিযোগ, এই তথাকথিত বিপ্লবীরা আসলে পরিচয় গোপনকারী বা ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী। ফলে রাজপথে যারা একদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল, আজ সেই মবস্টাররা নিজেরায় একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর এই মেরুকরণ জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যখন ক্ষমতার ভাগাভাগি শুরু হয়, তখন বিপ্লবের আদর্শ জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই আদর্শহীনতাই আজ তাদের এই করুণ পরিণতির অন্যতম প্রধান কারণ।
আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ও মব জাস্টিস
যেকোনো সভ্য সমাজে বিচারের দায়িত্ব আদালতের। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে মব জাস্টিস বা গণবিচার একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ইউনুসের সরকার এই মব নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। যখন রাস্তাঘাটে মানুষ পিটিয়ে মারা হয় এবং প্রশাসন নীরব থাকে, তখন মব কালচার উৎসাহিত হয়। এই মব কালচারের অগ্রসেনানী ছিল যারা, আজ তারাই পরিস্থিতির শিকার।
আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো এই পরিস্থিতিকে ‘মবোক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মবস্টাররা নিজেরায় যখন আইন হাতে তুলে নিয়েছিল, তখন তারা একটি দানব তৈরি করেছিল। সেই দানব আজ তাদেরই গ্রাস করতে চাইছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:
জ্বালানি সংকটের প্রভাব: ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, দূর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে জীবনযাত্রা
বিচারহীনতার সংস্কৃতি তাদের বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। আজ শাহবাগ থানার ভেতরেও পুলিশ তাদের রক্ষা করতে পারছে না। কারণ পুলিশও এখন মবের ভয়ে তটস্থ। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতি বিপ্লবীদের পতন ত্বরান্বিত করেছে। যারা ভাবত তারাই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, আজ সেই মবস্টাররা নিজেরায় এখন আইনরক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সাহায্য চেয়েও পাচ্ছে না।
ইউনুস সরকারের দায় এবং বিপ্লবীদের মোহভঙ্গ
শান্তির মহাদূত ইউনুস একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব হলেও তার সরকার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেয়েছে। তিনি এই তরুণ বিপ্লবীদের অনেক বেশি স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। অনেকে মনে করেন, এই অতি-স্বাধীনতা তাদের দাম্ভিক করে তুলেছিল। তারা শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করেছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ছাত্রনেতাদের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ছিল না। তারা কেবল ক্ষমতার স্বাদ পেতে চেয়েছিল।
আজ যখন বিএনপি বা ছাত্রদলের মতো পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো মাঠে ফিরেছে, তখন এই নব্য বিপ্লবীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মবস্টাররা নিজেরায় এখন বুঝতে পারছে যে ড. ইউনুসের আশীর্বাদ সবসময় তাদের রক্ষা করবে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক মাঠ যখন তপ্ত হয়, তখন কেবল গায়ের জোরে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
ইউনুস সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এই গোষ্ঠীটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। আজ যখন সাধারণ মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন মবস্টাররা নিজেরায় নিজেদের একাকী ও অসহায় অনুভব করছে।
শাহবাগ কাণ্ড: পতনের প্রতীক
২৩শে এপ্রিল শাহবাগ থানার সামনে যে ঘটনা ঘটেছে, তা জুলাই বিপ্লবীদের পতনের এক বড় বিজ্ঞাপন। ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেককে ছাত্রদল কর্মীরা বেধড়ক পিটিয়েছে। একসময় এই নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঘের মতো গর্জন করত।
আজ তারা প্রাণের ভয়ে থানার ভেতরে লুকাচ্ছে। অথচ তারা একসময় দাবি করত যে তারাই জুলাই বিপ্লবের মূল কাণ্ডারি। কিন্তু জনমত তাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে। কারণ তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ বড় করে দেখেছে।
এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থ্রিলার ফিকশনটি পড়ুন:
মবস্টাররা নিজেরায় যখন আক্রান্ত হয়, তখন বোঝা যায় ক্ষমতার দাপট কত ঠুনকো। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই অশালীনতা তাদের নৈতিক পতনকে আরও স্পষ্ট করেছে। যারা একদিন পরিবর্তনের কথা বলেছিল, আজ তারা নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত। ফলে সাধারণ জনগণের সহানুভূতি তারা হারিয়েছে। আজ মবস্টাররা নিজেরায় যখন মার খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে মানুষের মন্তব্যগুলো দেখলে বোঝা যায় মানুষ কতটা ক্ষুব্ধ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল মব
বর্তমানে মব কেবল রাজপথে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ডিজিটাল জগতেও বিস্তৃত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও এখন দেখা যাচ্ছে যে মবস্টাররা নিজেরায় ট্রলের শিকার হচ্ছেন। একসময় যারা ফেসবুকে নির্দেশ দিয়ে মানুষকে আক্রমণ করাত, আজ তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই পোস্টের পর পোস্ট হচ্ছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন বিতর্কিত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। মানুষ তাদের পুরোনো দম্ভের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটি একটি ডিজিটাল রিভেঞ্জ বা প্রতিশোধ।
যখন কোনো গোষ্ঠী সীমা লঙ্ঘন করে, তখন সমাজ তাদের কোনো না কোনোভাবে শাস্তি দেয়। মবস্টাররা নিজেরায় এখন ডিজিটাল মবের কাছেও অসহায়। তাদের প্রতিটি ভুল এখন তিলকে তাল করে প্রচার করা হচ্ছে। ছোট বাক্য ব্যবহার করে বললে, তাদের কোনো পালানোর পথ নেই। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় জায়গাতেই তারা এখন প্রত্যাখ্যাত। এই সামাজিক বর্জন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই অস্থিরতাকে উদ্বেগের সাথে দেখছে। বিবিসি বা আল-জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই বাংলাদেশের মব ভায়োলেন্স নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্রের পতনের পর নতুন ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যারা এই অস্থিরতার কারিগর ছিল, আজ সেই মবস্টাররা নিজেরায় সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত। যখন একটি দেশের বিচার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মব শক্তিশালী হয়, তখন সেখানে বিনিয়োগ বা উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ইউনুসের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের অগাধ বিশ্বাস থাকলেও এই মব কালচার তার ইমেজেও আঘাত হানছে। বিদেশি সাংবাদিকরা লক্ষ্য করছেন যে, বিপ্লবীরা আজ নিজেদের মধ্যেই লড়াই করছে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আধিপত্যের লড়াই বিপ্লবের অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। বিশ্ব দেখছে কীভাবে মবস্টাররা নিজেরায় নিজেদের পতন ডেকে আনছে। এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিপ্লব পরবর্তী বিশৃঙ্খলার এক ধ্রুপদী উদাহরণ।
কেন এই পরিণতি? একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ
তথাকথিত জুলাই বিপ্লবীদের এই পরিস্থিতির জন্য কয়েকটি কারণ দায়ী।
প্রথমত, তাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল না। তারা সাময়িক আবেগকে পুঁজি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, তাদের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার। যখন কেউ বিনা বিচারে কাউকে শাস্তি দেয়, তখন সে নিজেই একটি বড় অপরাধী হয়ে ওঠে। আজ মবস্টাররা নিজেরায় যখন বিচারের কাঠগড়ায়, তখন তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের বলি হওয়া। বড় বড় দলগুলো বিপ্লবীদের ব্যবহার করেছে এবং এখন যখন কাজ শেষ, তখন তাদের ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে। এই চরম বাস্তবতাই আজ তাদের তাড়া করছে। তারা ভেবেছিল তারা অপরাজেয়।
কিন্তু সত্য হলো, মব দিয়ে কখনো স্থায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়া যায় না। যারা মব দিয়ে শুরু করে, তাদের শেষটাও মব দিয়েই হয়। আজ যখন মবস্টাররা নিজেরায় মার খাচ্ছে, তখন এটি তাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই বিপ্লব আমাদের যে সুযোগ দিয়েছিল, তা আজ নষ্ট হতে বসেছে। একদল পথভ্রষ্ট তরুণের কারণে পুরো বিপ্লবটি আজ বিতর্কিত। যখন মবস্টাররা নিজেরায় এখন মবের শিকার হয়, তখন এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।
কারো পরিচয়ই তাকে আইনের উর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না। ইউনুসের তথাকথিত বিপ্লবীদের এই পরিণতি থেকে পরবর্তী প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। গায়ের জোর বা মব দিয়ে বিচার করা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়।
যদি আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই, তবে আমাদের আইনের শাসনে ফিরে আসতে হবে। মবস্টারদের এই করুণ পরিণতি দেখে আশা করি সবাই সচেতন হবে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা অন্ধকার পথ বেছে নেয়, তাদের শেষটাও অন্ধকারেই হয়। মবস্টাররা নিজেরায় আজ যে বিপদের মুখে, তা তাদের নিজস্ব কর্মেরই ফল। পরিশেষে বলা যায়, বিপ্লব ছিল মুক্তির জন্য, মব জাস্টিসের জন্য নয়। এই সত্যটি অনুধাবন না করলে আমাদের আরও করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata
ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata