কিচেন কেবিনেট নিয়ে রাজনীতি সরগরম: প্রত্যেকের দাবি তিনি ছিলেন না, তাহলে কে ছিলেন ইউনুসের কিচেনে?

​ক্ষমতার অলিন্দে নতুন ঝড়

একনজরে আর্টিকেলটির সারাংশ দেখুন: hide

​বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এখন নতুন এক ঝড় বইছে। এই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি শব্দ—‘কিচেন কেবিনেট’। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কিছু গোপন সিদ্ধান্ত এখন প্রকাশ্যে আসছে। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যমুনা টেলিভিশনে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ভেতরের অনেক অজানা তথ্য ফাঁস করেছেন। এর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রত্যেকেই দাবি করছেন তারা এই চক্রে ছিলেন না। তাহলে ইউনুসের সেই প্রভাবশালী কিচেন কেবিনেট আসলে কারা চালাতেন? এই রহস্য উন্মোচন করা এখন সময়ের দাবি।

​কিচেন কেবিনেট কী এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

​রাজনীতিতে ‘কিচেন কেবিনেট’ বা ‘রান্নাঘর মন্ত্রিসভা’ কোনো নতুন ধারণা নয়। এটি মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক নীতি-নির্ধারক ফোরাম। যেখানে সরকার প্রধানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কিছু মানুষ থাকেন। তারা পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেন। মূল মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অন্ধকারে রেখে এই গোষ্ঠী কাজ করে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারের আমলে এমন অদৃশ্য শক্তির কথা শোনা গেছে। তবে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এর প্রভাব ছিল নজিরবিহীন। সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, এই কিচেন কেবিনেট প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলাদা বৈঠকে বসত। সেখানে ইউনুস নিজে উপস্থিত থাকতেন। সেই বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতো দেশের মূল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাগ্য।

​তৌহিদ হোসেনের বিস্ফোরক জবানবন্দি

​সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তার অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তৌহিদ হোসেন জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাকে না জানিয়েই নেওয়া হতো। তাকে এক প্রকার ঠুটো জগন্নাথ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাইপাস করে কাজ করত একটি নির্দিষ্ট মহল। তিনি আরও জানান, ইউনুসের এই বিশেষ কিচেন কেবিনেট পুরো সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করত। এই বৈষম্যমূলক ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে তিনি তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার দোহাই দিয়ে ইউনুস তাকে আটকে রাখেন।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

যৌন হিংস্রতার চরম পর্যায়ে বাংলাদেশ: রামিসাসহ শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নাকি শুধুই প্রতিশ্রুতি?

​কারা ছিলেন এই অদৃশ্য কিচেন কেবিনেট-এ?

​তৌহিদ হোসেনের এই বক্তব্যের পর সংবাদমাধ্যমগুলো অনুসন্ধানে নামে। বিশেষ করে যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকা কিছু সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনুসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাতজন ব্যক্তি এই কিচেন কেবিনেট গঠন করেছিলেন। এই তালিকায় প্রথমেই নাম আসে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের। এর পর রয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তালিকায় আরও আছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। মানবাধিকার কর্মী ও উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুভ্রর নামও এসেছে। এর পাশাপাশি অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ছবিও গণমাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটিই ছিল ইউনুসের মূল চালিকাশক্তি।

​অস্বীকারের রাজনীতি: প্রত্যেকেই ধুয়ো তুলছেন ‘আমি ছিলাম না’

​এই গোপন তথ্য ফাঁসের পর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রত্যেকেই এখন নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। গণমাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে তারা এই চক্রের অংশ ছিলেন না। বাংলাদেশের একমাত্র মহাজ্ঞানী সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তিনি কোনো কিচেন কেবিনেট-এর সদস্য ছিলেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝে আইন ও সংস্কারের বিষয়ে ইউনুস তাকে ডাকতেন। অন্যদিকে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও টেলিভিশনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কিচেন কেবিনেট-এর অস্তিত্ব পুরোপুরি স্বীকার না করলেও সরকারের কিছু ভুলের কথা মেনে নিয়েছেন। এর আগে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনও একই সুরে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সব দোষ ইউনুসের চারপাশের একটি বিশেষ কিচেন কেবিনেট-এর।

​মানবজমিন ও ইত্তেফাকের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

​দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলো এই কিচেন কেবিনেট নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দৈনিক মানবজমিন তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, এই কিচেন কেবিনেট-এর সদস্যরা চরম প্রভাবশালী ছিলেন। তারা বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। দেশের অনেক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির পেছনেও এই গোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রতিবেদনে তৌহিদ হোসেনের দাবিকে সমর্থন করেছে। ইত্তেফাক স্পষ্ট জানিয়েছে, সাত সদস্যের একটি শক্তিশালী কিচেন কেবিনেট অন্তর্বর্তী সরকারকে পর্দার আড়াল থেকে পরিচালনা করত। এই ধরনের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কারণে সরকারের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ছিল।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

হাম মোকাবিলায় গুরুত্ব নেই: বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষিত হচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ

​মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি

​ইউনুস সরকারের অন্যতম বড় বিতর্ক ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তিটি নিয়ে খোদ সরকারের ভেতরেই চরম লুকোচুরি ছিল। তৌহিদ হোসেন প্রকাশ করেছেন এক চরম সত্য। সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তিটি তড়িঘড়ি করে সই করা হয়। অথচ দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হওয়া সত্ত্বেও তৌহিদ হোসেন এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এমনকি বাংলাদেশের একমাত্র মহাজ্ঞানী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এই চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। ইউনুস তার কিচেন কেবিনেট এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে নিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছে। সুই থেকে শুরু করে বোইং বিমান—সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার এক অসম বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।

​ডিপ স্টেট (Deep State) এবং জুলাই বিপ্লবের নেপথ্য শক্তি

​তৌহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ উঠে এসেছে। সেটি হলো ‘ডিপ স্টেট’ বা গভীর রাষ্ট্র। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ডিপ স্টেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই পরিবর্তনের পেছনে ডিপ স্টেট সক্রিয় ছিল। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এই নিয়ে অনেক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক সময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অর্থায়নের কথা উল্লেখ করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই ডিপ স্টেটই ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। আর সেই ডিপ স্টেটের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই তৈরি হয়েছিল ইউনুসের কিচেন কেবিনেট। এই অদৃশ্য শক্তিই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল নীতি নির্ধারণ করত।

​ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

​অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার অনেক নাটকীয়তা করেছে। তৌহিদ হোসেন এই বিষয়েও সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা কি সত্যিই আন্তরিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছিলাম? ইউনুসের কিচেন কেবিনেট আসলে ভারতের সাথে স্থায়ী শত্রুতা তৈরি করতে চেয়েছিল। তারা কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের কাছে পাঠানো চিঠিগুলো ছিল কেবলই লোকদেখানো। ইউনুস তার ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক লবিং ব্যবহার করে নিজের বিপণন বা মার্কেটিং করেছেন। কিন্তু দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক স্বার্থকে তিনি জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

​আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশ্লেষণ ও দেশীয় প্রতিক্রিয়া

​ইউনুস সরকারের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন আর্টিকেলে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে একটি এনজিও-ভিত্তিক এবং পশ্চিমা-ঘেঁষা শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে এই কিচেন কেবিনেট-এর কোনো মিল ছিল না। ইউনুসের উপদেষ্টারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ছিলেন। তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবণতি ঘটেছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই ব্যর্থতার দায় এখন কেউ নিতে চাচ্ছেন না। ক্ষমতা হারানোর পর উপদেষ্টারা এখন জনসমক্ষে এক ধরনের আত্মসমর্পণ করছেন। তারা দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করছেন।

এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অন্য আর্টিকেল পড়ুন:

শান্তির মহাদূত ও তার উপদেষ্টাদের আমলনামা: প্রকাশিত সংবাদের আলোকে লুটপাটের উপাখ্যান বিশ্লেষণ

​রাষ্ট্রদূত হারুন আল রশিদের পর্যবেক্ষণ ও ক্ষোভ

​সাবেক রাষ্ট্রদূত হারুন আল রশিদ ইউনুস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ইউনুসের এই সরকার ছিল এক ধরনের ‘ডাকাতন্ত্র’। তারা রাষ্ট্রে ঢুকেই লুটপাট শুরু করে দিয়েছিল। মঈন ইউ আহমেদ বা ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারও এভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েনি। তিনি তৌহিদ হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে সৎ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, তৌহিদ হোসেনও এই অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না। হারুন আল রশিদের মতে, এই কিচেন কেবিনেট ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে অপবিত্র করেছে। এই জঙ্গিতান্ত্রিক ও এনজিও-ভিত্তিক গোষ্ঠীর কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। ইউনুস, খলিলুর রহমান ও আলী রিয়াজরা মূলত মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।

​হাওয়া বদলের আভাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার গুঞ্জন

​তৌহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত মন্তব্য। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবেই। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ণ শক্তিতে অংশগ্রহণ করবে। ইউনুসের কিচেন কেবিনেট যতই নিষেধাজ্ঞা জারি করুক না কেন, আওয়ামী লীগকে বিলীন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপদেষ্টারা এখন হাওয়ার গতি বুঝতে পারছেন। বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের আমলেও এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। উপদেষ্টারা বুঝতে পারছেন যে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে তারা এখন থেকেই সুর নরম করছেন।

​বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

​বর্তমান নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এই পরিস্থিতি এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনুসের কিচেন কেবিনেট দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে যে ধ্বংসস্তূপ রেখে গেছে, তা মেরামত করা সহজ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো পরাশক্তিগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তৌহিদ হোসেনও এই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। যদি বর্তমান সরকারও সেই অদৃশ্য ডিপ স্টেটের ইশারায় চলে, তবে দেশের সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ড. ইউনুস সরকারের উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। দেশের মানুষ জানতে চায়, কার স্বার্থে সেই গোপন চুক্তিগুলো করা হয়েছিল।

​কিচেন কেবিনেট-এর সদস্যদের দ্বিমুখী নীতি

​বাংলাদেশী জনগণের মনে এখন তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ইউনুসের কিচেন কেবিনেট-এর সদস্যরা দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ক্ষমতার সবটুকু মধু ভোগ করেছেন। তারা মন্ত্রিত্বের মর্যাদা পেয়েছেন। গাড়ি, বাড়ি ও প্রটোকলসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেছেন। তখন তারা দেশের মানুষের কষ্টের কথা ভাবেননি। তখন তারা স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালিয়েছেন। আর এখন ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তারা বলছেন যে তারা নিরপরাধ ছিলেন। এই দ্বিমুখী নীতি দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। আসিফ নজরুল কিংবা রিজওয়ানা হাসানের মতো রাজনৈতিক প্রতারকেরা আজ ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। ক্ষমতার লোভ কীভাবে মানুষকে অন্ধ করে, এটি তার এক জঘন্য উদাহরণ।

​ইতিহাসের অমোঘ শিক্ষা

​ইউনুসের কিচেন কেবিনেট নিয়ে সৃষ্ট এই বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। পর্দার আড়ালের এই অদৃশ্য সরকার দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করেছে। প্রত্যেকেই যখন দাবি করছেন “আমি ছিলাম না”, তখন এটি স্পষ্ট যে পাপের ভাগীদার কেউ হতে চায় না। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ইউনুসের রান্নাঘরে বসে যারা দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, তাদের মুখোশ আজ উন্মোচিত। একটি নির্বাচিত সরকারের উচিত এই কিচেন কেবিনেট-এর যাবতীয় দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। তদন্তের মাধ্যমে পর্দার পেছনের আসল খলনায়কদের চিহ্নিত করতে হবে। অন্যথায়, পর্দার আড়ালের এই অদৃশ্য শক্তির খেলা কোনোদিনই বন্ধ হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিকে এই ধরনের গোপন চক্রান্ত থেকে মুক্ত করাই হোক নতুন প্রজন্মের মূল অঙ্গীকার।

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন: Bangerchata

ব্যাঙেরছাতা ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: Bangerchata

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *